ঢাকা ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফুলবাড়ীতে মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে প্রাণ বঙ্গ মিলার্স লিমিটেড এর কর্মকর্তাদের সৌজন্যে সাক্ষাৎ ফুলবাড়ীর সীমান্তে বিজিবি পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫ লক্ষ ৩৯ হাজার ৮ শত ৯০ টাকার মাদক আটক করেন বাগদান ও বিবাহসংক্রান্ত অভিযোগ এবং কূটনৈতিক মর্যাদার অপব্যবহার চোর সন্দেহে রংপুরে ৩ জনকে পিটিয়ে হত্যা ফুলবাড়ীতে মাইক্রোওয়েভ স্টেশনটি সংস্কার না করায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৭৭, মামলা ৩৪ সারাদেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুর্গাপূজা উৎসব আটোয়ারীতে নসিমনের (ভটভটি) ধাক্কায় সাইকেল আরোহীর মৃত্যু

কৃত্রিম আলোয় হারিয়ে যাচ্ছে রাতের স্বাভাবিক অন্ধকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১১:৩৩:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫২৫ বার পড়া হয়েছে

রাতে ঘরের সব আলো নিভিয়ে দিলেও জানালার পর্দা ভেদ করে ঘরে ঢুকে পড়ে বাইরের কৃত্রিম আলোর তীব্র ঝলকানি। রাস্তার বাতি বারান্দার আলো কিংবা পার্কিং লটের ফ্লাডলাইটে শহরের রাত যেন ক্রমেই হারিয়ে ফেলছে তার স্বাভাবিক অন্ধকার।

যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ডের মতো আধুনিক নগরগুলোতে অনেক মানুষের কাছে সত্যিকারের অন্ধকারে ঘুমানোর অভিজ্ঞতা এখন প্রায় অপরিচিত। রাত নামলেও চারপাশে কৃত্রিম আলোর উপস্থিতি এমনভাবে বজায় থাকে যে প্রকৃত রাতের অনুভূতিই অনেকটা মুছে যাচ্ছে।

তবে শহরের কৃত্রিম আলোর বাইরে এমন কিছু অঞ্চল এখনো রয়েছে যেখানে রাতের আকাশ তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ধরে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ-ইস্ট ওরেগনের প্রায় আড়াই মিলিয়ন একরজুড়ে বিস্তৃত একটি আন্তর্জাতিক ডার্ক স্কাই অঞ্চলে গিয়ে সেই অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।

সেখানে সূর্যাস্তের মাত্র আধা ঘণ্টা পর শুকনো হ্রদের অববাহিকায় খোলা আকাশের নিচে লাল আলো জ্বালিয়ে মানুষ রাতের আকাশ পর্যবেক্ষণে জড়ো হন। ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয় শুক্র গ্রহ এবং ভেগার মতো উজ্জ্বল নক্ষত্র। এরপর রাত যত গভীর হয় ততই আকাশে ফুটে ওঠে আর্সা মেজর আর্সা মাইনর সিগনাস ও ক্যাসিওপিয়ার মতো নক্ষত্রমণ্ডল।

একপর্যায়ে দৃশ্যমান হয় মিল্কিওয়ের উজ্জ্বল আলোর রেখা। তখন নীরব রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে মানুষ মহাবিশ্বের বিশালতার সামনে নিজের ক্ষুদ্রতাও উপলব্ধি করতে পারেন।

কিন্তু এমন দৃশ্য ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে। বিভিন্ন গবেষণা ও পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে পৃথিবীর রাতের আকাশ প্রতিবছর আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ এখন কোনো না কোনো মাত্রার আলো দূষিত আকাশের নিচে বসবাস করছেন।

আলো দূষণের প্রভাব শুধু রাতের আকাশের সৌন্দর্য নষ্ট করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি প্রকৃতির স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্রের ওপরও প্রভাব ফেলছে।

চাঁদের আলো ও প্রাকৃতিক অন্ধকারের ওপর নির্ভর করে চলাচল করা বিভিন্ন প্রাণী ও পতঙ্গ কৃত্রিম আলোর কারণে বিভ্রান্ত হচ্ছে। ডিম ফুটে বের হওয়া সামুদ্রিক কচ্ছপের বাচ্চা সমুদ্রের দিকে না গিয়ে অনেক সময় পার্কিং লট বা ভবনের আলোর দিকে ছুটে যাচ্ছে।

আবার অসংখ্য পতঙ্গ কৃত্রিম আলোর চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে মারা যাচ্ছে। জোনাকি ও ব্যাঙের মতো প্রাণীর প্রজনন প্রক্রিয়াতেও অন্ধকার গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত আলো তাদের স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত করছে। একইভাবে শহরের তীব্র আলোয় পথ হারাচ্ছে পরিযায়ী পাখিও।

উদ্ভিদ ও পরাগায়নকারীদের মধ্যকার সম্পর্কেও কৃত্রিম আলো নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। এতে কোনো কোনো গাছ অসময়ে ফুল ফোটাচ্ছে এবং বিভিন্ন জীবের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি বা সার্কেডিয়ান রিদম ব্যাহত হচ্ছে।

মানুষও এর বাইরে নয়। ঘরের ভেতরের আলো কিংবা জানালার বাইরে থেকে আসা কৃত্রিম আলো পর্যাপ্ত অন্ধকারের পরিবেশ নষ্ট করলে ঘুম ও শরীরের স্বাভাবিক বিশ্রাম প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে। সুস্থ থাকা শারীরিক পুনরুদ্ধার এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের জন্য অন্ধকার পরিবেশের প্রয়োজনীয়তার কথা বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

আলো দূষণের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে রাস্তার বাতি বাণিজ্যিক ভবন পার্কিং লট এবং রাতভর আলোকিত খেলার মাঠ। তবে এখন হুমকি শুধু মাটিতে সীমাবদ্ধ নেই। রাতের আকাশেও কৃত্রিম আলোর উপস্থিতি বাড়ছে।

সংরক্ষিত ডার্ক স্কাই অঞ্চলেও খালি চোখে মিল্কিওয়ে দেখা গেলেও মহাকাশে ঘুরে বেড়ানো কৃত্রিম উপগ্রহ রাতের আকাশের স্বাভাবিক দৃশ্যপট বদলে দিচ্ছে। বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক স্টারলিংক স্যাটেলাইটের উপস্থিতি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ ছাড়া মহাকাশে স্যাটেলাইট ব্যবহার করে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে পৃথিবীর নির্দিষ্ট অঞ্চল আলোকিত করার মতো প্রযুক্তি নিয়েও কাজ চলছে। এসব প্রযুক্তির দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

তবে অন্ধকার রক্ষার অর্থ শহরের সব রাস্তার বাতি বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা আলোর দিক নির্ধারণ করা এবং অপ্রয়োজনীয় আলো কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ফ্ল্যাগস্টাফ শহর এ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে আলোকসজ্জা নিয়ন্ত্রণের উদাহরণ তৈরি করেছে। ১৯৫৮ সাল থেকেই সেখানে বহিরঙ্গন আলোর ওপর নিয়ম আরোপ করা হয়। পরে শহরটি ডার্ক স্কাই সিটি হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ফ্ল্যাগস্টাফের মতো আরও অনেক শহর এখন আলো দূষণ কমাতে বিভিন্ন বিধিনিষেধের কথা ভাবছে। কোথায় কী ধরনের আলো ব্যবহার করা হবে কতটা উজ্জ্বল হবে এবং আলো কোন দিকে যাবে এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রাতের অন্ধকার রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মানুষের সভ্যতার ইতিহাসেও রাতের অন্ধকার ও নক্ষত্রভরা আকাশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তারার আলো মানুষকে পথ দেখিয়েছে। নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ থেকে তৈরি হয়েছে দিকনির্ণয়ের ধারণা ক্যালেন্ডার এবং নানা বৈজ্ঞানিক জ্ঞান।

কিন্তু আধুনিক নগরায়নের সঙ্গে সেই নক্ষত্রভরা আকাশই এখন অনেক মানুষের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। রাতের অন্ধকার আর স্বাভাবিক কোনো অভিজ্ঞতা নয় বরং অনেকের কাছে তা হয়ে উঠছে বিশেষ এক ধরনের বিলাসিতা।

অপ্রয়োজনীয় আলো কমিয়ে প্রয়োজনীয় জায়গায় সঠিক মাত্রার আলো ব্যবহার করা গেলে একদিকে যেমন নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব অন্যদিকে তেমনি মানুষ প্রকৃতির স্বাভাবিক রাতের সৌন্দর্যও ফিরে পেতে পারে। অন্ধকার তাই শুধু আলো না থাকার নাম নয় বরং মানুষের বিশ্রাম এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৪০
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:২৮
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৪৬
  • ১১:৪৬
  • ৩:৪৮
  • ৫:২৮
  • ৬:৪২
  • ৬:০০

কৃত্রিম আলোয় হারিয়ে যাচ্ছে রাতের স্বাভাবিক অন্ধকার

আপডেট সময় : ১১:৩৩:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাতে ঘরের সব আলো নিভিয়ে দিলেও জানালার পর্দা ভেদ করে ঘরে ঢুকে পড়ে বাইরের কৃত্রিম আলোর তীব্র ঝলকানি। রাস্তার বাতি বারান্দার আলো কিংবা পার্কিং লটের ফ্লাডলাইটে শহরের রাত যেন ক্রমেই হারিয়ে ফেলছে তার স্বাভাবিক অন্ধকার।

যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ডের মতো আধুনিক নগরগুলোতে অনেক মানুষের কাছে সত্যিকারের অন্ধকারে ঘুমানোর অভিজ্ঞতা এখন প্রায় অপরিচিত। রাত নামলেও চারপাশে কৃত্রিম আলোর উপস্থিতি এমনভাবে বজায় থাকে যে প্রকৃত রাতের অনুভূতিই অনেকটা মুছে যাচ্ছে।

তবে শহরের কৃত্রিম আলোর বাইরে এমন কিছু অঞ্চল এখনো রয়েছে যেখানে রাতের আকাশ তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ধরে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ-ইস্ট ওরেগনের প্রায় আড়াই মিলিয়ন একরজুড়ে বিস্তৃত একটি আন্তর্জাতিক ডার্ক স্কাই অঞ্চলে গিয়ে সেই অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।

সেখানে সূর্যাস্তের মাত্র আধা ঘণ্টা পর শুকনো হ্রদের অববাহিকায় খোলা আকাশের নিচে লাল আলো জ্বালিয়ে মানুষ রাতের আকাশ পর্যবেক্ষণে জড়ো হন। ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয় শুক্র গ্রহ এবং ভেগার মতো উজ্জ্বল নক্ষত্র। এরপর রাত যত গভীর হয় ততই আকাশে ফুটে ওঠে আর্সা মেজর আর্সা মাইনর সিগনাস ও ক্যাসিওপিয়ার মতো নক্ষত্রমণ্ডল।

একপর্যায়ে দৃশ্যমান হয় মিল্কিওয়ের উজ্জ্বল আলোর রেখা। তখন নীরব রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে মানুষ মহাবিশ্বের বিশালতার সামনে নিজের ক্ষুদ্রতাও উপলব্ধি করতে পারেন।

কিন্তু এমন দৃশ্য ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে। বিভিন্ন গবেষণা ও পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে পৃথিবীর রাতের আকাশ প্রতিবছর আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ এখন কোনো না কোনো মাত্রার আলো দূষিত আকাশের নিচে বসবাস করছেন।

আলো দূষণের প্রভাব শুধু রাতের আকাশের সৌন্দর্য নষ্ট করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি প্রকৃতির স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্রের ওপরও প্রভাব ফেলছে।

চাঁদের আলো ও প্রাকৃতিক অন্ধকারের ওপর নির্ভর করে চলাচল করা বিভিন্ন প্রাণী ও পতঙ্গ কৃত্রিম আলোর কারণে বিভ্রান্ত হচ্ছে। ডিম ফুটে বের হওয়া সামুদ্রিক কচ্ছপের বাচ্চা সমুদ্রের দিকে না গিয়ে অনেক সময় পার্কিং লট বা ভবনের আলোর দিকে ছুটে যাচ্ছে।

আবার অসংখ্য পতঙ্গ কৃত্রিম আলোর চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে মারা যাচ্ছে। জোনাকি ও ব্যাঙের মতো প্রাণীর প্রজনন প্রক্রিয়াতেও অন্ধকার গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত আলো তাদের স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত করছে। একইভাবে শহরের তীব্র আলোয় পথ হারাচ্ছে পরিযায়ী পাখিও।

উদ্ভিদ ও পরাগায়নকারীদের মধ্যকার সম্পর্কেও কৃত্রিম আলো নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। এতে কোনো কোনো গাছ অসময়ে ফুল ফোটাচ্ছে এবং বিভিন্ন জীবের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি বা সার্কেডিয়ান রিদম ব্যাহত হচ্ছে।

মানুষও এর বাইরে নয়। ঘরের ভেতরের আলো কিংবা জানালার বাইরে থেকে আসা কৃত্রিম আলো পর্যাপ্ত অন্ধকারের পরিবেশ নষ্ট করলে ঘুম ও শরীরের স্বাভাবিক বিশ্রাম প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে। সুস্থ থাকা শারীরিক পুনরুদ্ধার এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের জন্য অন্ধকার পরিবেশের প্রয়োজনীয়তার কথা বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

আলো দূষণের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে রাস্তার বাতি বাণিজ্যিক ভবন পার্কিং লট এবং রাতভর আলোকিত খেলার মাঠ। তবে এখন হুমকি শুধু মাটিতে সীমাবদ্ধ নেই। রাতের আকাশেও কৃত্রিম আলোর উপস্থিতি বাড়ছে।

সংরক্ষিত ডার্ক স্কাই অঞ্চলেও খালি চোখে মিল্কিওয়ে দেখা গেলেও মহাকাশে ঘুরে বেড়ানো কৃত্রিম উপগ্রহ রাতের আকাশের স্বাভাবিক দৃশ্যপট বদলে দিচ্ছে। বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক স্টারলিংক স্যাটেলাইটের উপস্থিতি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ ছাড়া মহাকাশে স্যাটেলাইট ব্যবহার করে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে পৃথিবীর নির্দিষ্ট অঞ্চল আলোকিত করার মতো প্রযুক্তি নিয়েও কাজ চলছে। এসব প্রযুক্তির দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

তবে অন্ধকার রক্ষার অর্থ শহরের সব রাস্তার বাতি বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা আলোর দিক নির্ধারণ করা এবং অপ্রয়োজনীয় আলো কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ফ্ল্যাগস্টাফ শহর এ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে আলোকসজ্জা নিয়ন্ত্রণের উদাহরণ তৈরি করেছে। ১৯৫৮ সাল থেকেই সেখানে বহিরঙ্গন আলোর ওপর নিয়ম আরোপ করা হয়। পরে শহরটি ডার্ক স্কাই সিটি হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ফ্ল্যাগস্টাফের মতো আরও অনেক শহর এখন আলো দূষণ কমাতে বিভিন্ন বিধিনিষেধের কথা ভাবছে। কোথায় কী ধরনের আলো ব্যবহার করা হবে কতটা উজ্জ্বল হবে এবং আলো কোন দিকে যাবে এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রাতের অন্ধকার রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মানুষের সভ্যতার ইতিহাসেও রাতের অন্ধকার ও নক্ষত্রভরা আকাশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তারার আলো মানুষকে পথ দেখিয়েছে। নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ থেকে তৈরি হয়েছে দিকনির্ণয়ের ধারণা ক্যালেন্ডার এবং নানা বৈজ্ঞানিক জ্ঞান।

কিন্তু আধুনিক নগরায়নের সঙ্গে সেই নক্ষত্রভরা আকাশই এখন অনেক মানুষের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। রাতের অন্ধকার আর স্বাভাবিক কোনো অভিজ্ঞতা নয় বরং অনেকের কাছে তা হয়ে উঠছে বিশেষ এক ধরনের বিলাসিতা।

অপ্রয়োজনীয় আলো কমিয়ে প্রয়োজনীয় জায়গায় সঠিক মাত্রার আলো ব্যবহার করা গেলে একদিকে যেমন নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব অন্যদিকে তেমনি মানুষ প্রকৃতির স্বাভাবিক রাতের সৌন্দর্যও ফিরে পেতে পারে। অন্ধকার তাই শুধু আলো না থাকার নাম নয় বরং মানুষের বিশ্রাম এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।