ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে লং মার্চ

- আপডেট সময় : ১১:০১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫২২ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে লং মার্চ শুরু করেছেন তার সমর্থকরা। ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআইয়ের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার কর্মসূচিটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দলটি। রোববার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ থেকে লং মার্চের যাত্রা শুরু হয়। প্রদেশটিতে বর্তমানে পিটিআই নেতৃত্বাধীন সরকার রয়েছে। দলটির পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় বিরতি দিয়ে একাধিক স্থান অতিক্রম করে মিছিলটি রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাবে।
সমর্থকদের উদ্দেশে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তরুণদের তাদের কারারুদ্ধ নেতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। ২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে পিটিআই সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই দলটির সঙ্গে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের বিরোধ তীব্র হয়। ইমরান খান তার সরকার পতনের পেছনে সেনাবাহিনীর ভূমিকার অভিযোগ করে আসছেন। তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
২০২৩ সালের মে মাসে ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তার সমর্থকদের বিক্ষোভ থেকে সামরিক স্থাপনায় হামলা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এরপর দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে হাজার হাজার পিটিআই নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। তাদের অনেককে সামরিক আদালতেও সাজা দেওয়া হয়েছে।
৭৪ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান নিজেকে রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে দাবি করে আসছেন। বিভিন্ন মামলায় সাজা হলেও আপিল চলাকালে একটি মামলা ছাড়া অন্য বেশ কয়েকটি সাজা স্থগিত বা বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছে পিটিআই। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর লং মার্চের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব আসায় কর্মসূচি পিছিয়ে দেয় পিটিআই। গত সপ্তাহের শেষ দিকে দুই পক্ষের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর আবারও লং মার্চ শুরু করেছে দলটি।
এদিকে সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে ইসলামাবাদ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য। জাতীয় সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও দূতাবাস এলাকা কনটেইনার দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, কোনোভাবেই বিক্ষোভকারীদের ইসলামাবাদে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেছেন, রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত করতে কোনো রাজনৈতিক দলকে সুযোগ দেওয়া হবে না।
আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য সরকার পিটিআইকে দায়ী করে বলেছে, আফগান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়ায় জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় যৌথ নীতিতে সহযোগিতা করতে দলটি রাজি হয়নি। তবে পিটিআই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, সরকার অন্যায্য শর্ত চাপিয়ে তাদের নতিস্বীকার করাতে চেয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকজন মন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, প্রাদেশিক সরকার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি না মানলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সেই সরকার ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। ফলে ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে শুরু হওয়া এই লং মার্চকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।



























