কোটভাগ দাখিল মাদরাসার সুপারের অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

- আপডেট সময় : ১০:৩০:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫৪৯ বার পড়া হয়েছে

সরকারি অনুদান ও মাদ্রাসার বিভিন্ন খাতের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কোটভাগ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. আবু দাউদের বিরুদ্ধে। মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দসহ বিভিন্ন খাতের অর্থের যথাযথ হিসাব দেওয়া হচ্ছে না।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মাদ্রাসায় গাছ লাগানোর জন্য প্রতি বছর সরকারি বরাদ্দ হিসেবে প্রায় ৫ হাজার টাকা আসে। কিন্তু ওই অর্থ গাছ লাগানোর কাজে ব্যয় না করে আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া প্রকাশনী থেকে প্রতিবছর ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া গেলেও ওই অর্থ শিক্ষকদের দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মাদ্রাসার পুরোনো বই বিক্রির অর্থ নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতি বছর পুরোনো বই বিক্রি করা হলেও সেই অর্থের কোনো হিসাব শিক্ষকদের দেওয়া হয় না। তাদের দাবি, প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পুরোনো বই বিক্রি করা হলেও এর আর্থিক হিসাবও অস্পষ্ট।
দাখিল পরীক্ষার্থীদের বোর্ড ফি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বোর্ড নির্ধারিত ফি ১ হাজার ৭০০ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত নেওয়া অর্থের কোনো হিসাব শিক্ষকদের জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে মন্ত্রণালয়ের অডিটকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। তবে ওই অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
এ ছাড়া ২০২৩ সালে মাদ্রাসার জন্য ৫ লাখ টাকা অনুদান আসে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষকদের জন্য ১ লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তারা ওই অর্থ পাননি এবং বাকি অর্থ কোন খাতে ব্যয় হয়েছে সে বিষয়েও শিক্ষকরা অবগত নন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন কোটভাগ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. আবু দাউদ। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি আরও বলেন, কোনো শিক্ষক জালিয়াতি বা ভুয়া সনদ তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকলে বিষয়টি সংবাদে প্রকাশ করা হলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে মাদ্রাসার বিভিন্ন খাতের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।


























