পানির নিচে একসঙ্গে ১১৬ ড্রোন চালিয়ে বিশ্ব রেকর্ড

- আপডেট সময় : ০৭:০২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫৩২ বার পড়া হয়েছে

পানির নিচে একসঙ্গে ছুটল ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন। কোনো মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই শতাধিক ড্রোনকে নির্ধারিত পথে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করে নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছে চীন। সুইমিং পুলে চালানো এই পরীক্ষাকে পানির নিচে বৃহৎ পরিসরে মানবহীন যান পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উত্তর-পশ্চিম পলিটেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিয়ান তিয়ানহে মেরিটাইম টেকনোলজিসের যৌথ উদ্যোগে এই পরীক্ষা চালানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয় ‘টিএইচ-৬১৮’ মডেলের ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান বা ড্রোন।
গত ২৯ আগস্ট ৫০ মিটার দীর্ঘ ও ২০ মিটার প্রশস্ত একটি সুইমিং পুলে পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই পরীক্ষা পরে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে রেকর্ড হিসেবে অনুমোদিত ও প্রকাশ করা হয়।
পরীক্ষার সময় ড্রোনগুলো ধারাবাহিকভাবে পানিতে নামানো হয়। এরপর কোনো মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ১১৬টি ড্রোন প্রায় ৩৪ মিনিট ধরে নির্ধারিত পথে সমন্বিতভাবে চলাচল করে এবং মোট ৫০০ মিটার পথ অতিক্রম করে। এ সময় বাস্তব সময়ের তথ্য ব্যবহার করে নিজেদের গতিপথ ঠিক রাখে ড্রোনগুলো।
গবেষকরা বলছেন, পানির নিচে একই পরিবেশে কয়েক ডজন এমনকি শত শত যানকে দীর্ঘ সময় ধরে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও স্থিতিশীলভাবে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা দীর্ঘদিনের একটি বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। কারণ পানির নিচে যোগাযোগ ব্যবস্থা জটিল এবং পরিবেশগত নানা প্রতিবন্ধকতাও থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় ব্যবহৃত টিএইচ-৬১৮ ড্রোনের প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৬১ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ২০ সেন্টিমিটার। প্রতিটির ওজন প্রায় ৫ দশমিক ১৪ কেজি। এগুলোর সর্বোচ্চ পাল্লা ৩০ কিলোমিটার এবং একটানা আট ঘণ্টার বেশি কাজ করার সক্ষমতা রয়েছে।
ড্রোনগুলোর চলাচলে মোবাইল ফোনভিত্তিক ক্যামেরা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। নির্ধারিত পথে কোনো বাধা কিংবা পরিবেশের পরিবর্তন শনাক্ত হলে নিজেদের গতিপথ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধন করতে পারে এগুলো। গবেষকরা জানিয়েছেন, পানির নিচে লক্ষ্য শনাক্তকরণ, তথ্য সংগ্রহ, শব্দতরঙ্গভিত্তিক যোগাযোগ এবং দৃশ্যগত প্রযুক্তি নিয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে গবেষণার ফলেই এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।
ড্রোন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান ইতোমধ্যে সমুদ্রতলের বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি, তেল-গ্যাসের পাইপলাইন পরিদর্শন এবং বিভিন্ন গবেষণা ও অবকাঠামোগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে ১১৬টি ড্রোনের এই সমন্বিত পরীক্ষা শুধু একটি বিশ্ব রেকর্ডই নয়, বরং ভবিষ্যতে বড় পরিসরে পানির নিচে মানবহীন যান ব্যবহারের সম্ভাবনাকেও আরও বিস্তৃত করেছে।




























