মাগুরা শহরে ৫ ইঞ্চি জমি নিয়ে ১৪ বছরের বিরোধ

- আপডেট সময় : ১০:২৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫৩২ বার পড়া হয়েছে

মাগুরা শহরের ভায়না মোড়ের যশোর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি জমির কয়েক ইঞ্চি অংশ নিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা-মামলা ও আইনি জটিলতার অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ জমিতে ঘর নির্মাণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এক পক্ষের দাবি, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমির মালিক হয়েও তারা সেখানে নির্মাণকাজ করতে পারছেন না। অন্য পক্ষও জমিটির মালিকানা দাবি করছে। তবে তাদের কাছে মালিকানার সংশ্লিষ্ট কিছু কাগজপত্র তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাগুরা সদর থানায় করা সাধারণ ডায়েরি, যার নম্বর ২৫৬ এবং তারিখ ৪ অক্টোবর ২০২৬, তাতে মো. জিয়াউর রহমান দাবি করেন, মাগুরা মৌজার খতিয়ান নম্বর ৫৬৮৭ ও দাগ নম্বর ৯৩৫৯-এর মোট শূন্য দশমিক ১৭৫ শতক জমির মধ্যে তিনি ও তার ভাই-বোন পৈত্রিক সূত্রে শূন্য দশমিক ০৮৭৫ শতক জমির মালিক। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মো. শওকত আলী ও তার ছেলে মো. রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধ চলছে। ২০২১ সালে মাগুরা পৌরসভা জমিটি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করে দেয় বলেও দাবি করেন তিনি।
জিয়াউর রহমানের অভিযোগ, গত ১৪ মার্চ ২০২৬ তিনি জমিতে ঘর নির্মাণের জন্য ইটের গাঁথুনির কাজ শুরু করেন। পরদিন গিয়ে তিনি গাঁথুনি ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। পরে আবার কাজ শুরু করলে অভিযুক্তরা গাঁথুনি ভেঙে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে কাজ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে মো. শওকত আলী দাবি করেন, ২০১২ সালে আতাউর রহমানের কাছ থেকে একই দাগের জমির শূন্য দশমিক ০৮৭৫ শতক অংশ তিনি কিনেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। তিনি বলেন, তিনি বৈধভাবে জমি কিনেছেন এবং কারও জমি দখল করেননি। বিষয়টি নিয়ে আদালত ও বিভিন্ন দপ্তরে আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের সময় শওকত আলী জমিটির আরএস রেকর্ড, নামজারি সংক্রান্ত কাগজপত্র কিংবা নিয়মিত খাজনা পরিশোধের রসিদ তাৎক্ষণিকভাবে দেখাতে পারেননি। একইভাবে মহাসড়ক সংলগ্ন বহুতল ভবনের অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণ অনুমতির সরকারি নথিও তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জমিটি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময়ে সালিশ, মাপজোক ও আইনি প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাদের মতে, জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে ভূমি রেকর্ড, নামজারি, খাজনা পরিশোধের তথ্য ও সরকারি জরিপের নথি যাচাই করা প্রয়োজন। মাগুরা সদর থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি রেকর্ড হয়েছে। জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি আইন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হবে। কোনো পক্ষ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রাথমিকভাবে উভয় পক্ষই একই দাগের জমির অংশবিশেষের ওপর মালিকানা দাবি করছে। তবে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভূমি অফিসের রেকর্ড, নামজারি, খাজনা পরিশোধের তথ্য, আদালতের আদেশ এবং সরকারি জরিপের নথিই গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। দীর্ঘদিনের এই বিরোধের স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ভূমি কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষভাবে নথিপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



























