মাগুরায় সংবাদ সংগ্রহে বাধা, গালাগাল ও গ্রেপ্তারের হুমকি

- আপডেট সময় : ১০:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫৩৭ বার পড়া হয়েছে

ডিবি পুলিশের প্রশ্ন ‘তুই এখানে আসছিস কেন?
মাগুরায় সংবাদ সংগ্রহে বাধা, গালাগাল ও গ্রেপ্তারের হুমকি, মাগুরা সদর উপজেলার শত্রুজিৎপুর ইউনিয়নের ধর্মদাহ গ্রামে সামাজিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের ডিবি কর্মকর্তার হাতে সাংবাদিককে হেনস্তা, অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং গ্রেপ্তারের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারী সাংবাদিক মো : রাজিব হোসেন অগ্রযাত্রা প্রতিদিন -এর মাগুরা প্রতিনিধি জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় মাগুরা সদর থানার ডিবি ওসি মো. আশরাফ তাকে ভিডিও করতে নিষেধ করেন। একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তা তাকে উদ্দেশ করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন বলে অভিযোগ। সাংবাদিকে বলে —“তুই এখানে আসছিস কেন, যেখানে আমি রয়েছি?”
শুধু তাই নয়, পরিস্থিতির একপর্যায়ে সাংবাদিককে গাড়িতে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এতে ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শত্রুজিৎপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ও মাগুরা সদর থানার ওসি (তদন্ত) এগিয়ে আসেন বলে জানা গেছে। তারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। সাংবাদিককে ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে বলা হয় ।
ঘটনার পর বিষয়টি মাগুরা রিপোর্টার্স ইউনিটকে জানানো হয়। খবর পেয়ে সংগঠনটির সাংবাদিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। তবে সাংবাদিকরা সেখানে পৌঁছানোর আগেই ডিবি ওসি মো. আশরাফ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন চলে যান।ধর্মদাহের মতো সংঘর্ষপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপত্তাজনিত কারণে কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় সাংবাদিকদের প্রবেশ বা ভিডিও ধারণে সীমাবদ্ধতা প্রয়োজন হলে সেটি দায়িত্বশীল ও পেশাদার উপায়ে বোঝানো যেতে পারে। কিন্তু কোনো সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে তা অবশ্যই প্রশ্নের জন্ম দেয়। বাংলাদেশ পুলিশের প্রকাশিত সিটিজেন চার্টারে জনগণকে সুরক্ষা, সাহায্য ও সেবা প্রদান এবং আশ্বস্ত করার কথা বলা হয়েছে। সেখানে পুলিশ সদস্যদের বিনয়ী ও ধৈর্যশীল আচরণের প্রত্যাশার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্ন, সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে যদি একজন সাংবাদিককে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হতে হয়, তাহলে মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকদের নিরাপদে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ কতটা নিশ্চিত—সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার বিষয়। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ ও গণমাধ্যম একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসাধারণকে সঠিক তথ্য জানানো—দুই পক্ষের দায়িত্বের ক্ষেত্র আলাদা হলেও উভয়ের লক্ষ্য জনস্বার্থ রক্ষা। তাই পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমন্বয় থাকা জরুরি।
ঘটনাটি নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা। বিশেষ করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী ও শত্রুজিৎপুর ইউনিনিয়নের চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বক্তব্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণের বিষয়ে পুলিশের কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা বা নিরাপত্তাজনিত কারণ থাকলে সেটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সাংবাদিকরা।
জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরতে একজন সাংবাদিক যখন সংঘর্ষস্থলে যান, তখন তার হাতে থাকা ক্যামেরা কি ভয় পাওয়ার কারণ, নাকি জনস্বার্থে তথ্যের একটি মাধ্যম?
আর যদি সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিককেই হুমকি, গালাগাল বা গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় পড়তে হয়—তাহলে মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পর্ক নিয়ে জবাবদিহি করবে কে?
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনকে একাধিকবার ফোন দিলে ও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।



























