গণরায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে: শফিকুর রহমান

- আপডেট সময় : ১২:২০:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৫৩৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হলে এর সঙ্গে ঈদের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। জনগণের যখন প্রয়োজন হবে, তখনই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। শনিবার রাতে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের ৭০ ভাগ মানুষের দেওয়া গণরায়কে অস্বীকার করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সেই গণআকাঙ্ক্ষা ও গণরায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিরতি বা থামাথামি ছাড়াই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের গতি রুদ্ধ করতে কোনো ধরনের লোভ বা প্রলোভন গ্রহণ করা হবে না। জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করেই তারা ছাড়বেন।

জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনগণকে কোনো স্বস্তি দিতে পারেনি। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের পাশাপাশি গ্রাহকদের নিয়মিত ভৌতিক বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। তেল ও জ্বালানির জন্যও সংকট তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় আনুকূল্যে সন্ত্রাস ও রাহাজানি বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, পতিত স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া সমস্যার সমাধান যদি সরকার একা করতে না পারে, তাহলে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। জনগণের সমস্যা সমাধানে সরকার ব্যর্থ হলে মানুষ বিকল্প খুঁজবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সভাপতির বক্তব্যে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ বলেন, নিজেদের স্বার্থে নয়, দেশের মানুষের স্বার্থে তারা রাজপথে এসেছেন। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত এবং সুশাসনের বাংলাদেশ গড়তে চান তারা। সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
জোটের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
সকালে ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া লংমার্চটি নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী ও মীরসরাইয়ে পথসভা শেষে রাতে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এদিকে, ১১ দলীয় ঐক্য সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রংপুর, খুলনা ও সিলেটে আরও লংমার্চ এবং ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।



























