ঢাকা ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফুলবাড়ীতে মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে প্রাণ বঙ্গ মিলার্স লিমিটেড এর কর্মকর্তাদের সৌজন্যে সাক্ষাৎ ফুলবাড়ীর সীমান্তে বিজিবি পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫ লক্ষ ৩৯ হাজার ৮ শত ৯০ টাকার মাদক আটক করেন বাগদান ও বিবাহসংক্রান্ত অভিযোগ এবং কূটনৈতিক মর্যাদার অপব্যবহার চোর সন্দেহে রংপুরে ৩ জনকে পিটিয়ে হত্যা ফুলবাড়ীতে মাইক্রোওয়েভ স্টেশনটি সংস্কার না করায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৭৭, মামলা ৩৪ সারাদেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুর্গাপূজা উৎসব আটোয়ারীতে নসিমনের (ভটভটি) ধাক্কায় সাইকেল আরোহীর মৃত্যু

দক্ষিণ শরুশুনা মাদরাসায় নিয়োগ ও নথি নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ

সাহেব আলী, মাগুড়া স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় : ০৬:০০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৫৩১ বার পড়া হয়েছে

মাগুরার শালিখা উপজেলার দক্ষিণ শরুশুনা দাখিল মাদরাসায় শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, যোগদানের তারিখ, শিক্ষাগত সনদ এবং বিভিন্ন নথিপত্র নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে অফিস সহকারী পদে জুয়েল হোসেনের নিয়োগ নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

অনুসন্ধানে পাওয়া বিভিন্ন নথি ও অভিযোগের ভিত্তিতে দাবি করা হচ্ছে, মাদরাসাটির কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর প্রকৃত যোগদানের সময়ের সঙ্গে নথিতে উল্লেখ করা যোগদানের তারিখের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। কারও কারও ক্ষেত্রে চাকরিতে যোগদানের কয়েক বছর আগের তারিখ দেখানোর অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, কয়েকজন শিক্ষককে নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন হয়েছে এবং কারও কারও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কৃষি ও কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ভুয়া বা জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এ ছাড়া মাদরাসার রেজুলেশন ও হাজিরা খাতা পরিবর্তন এবং পুরোনো নথিতে কাটাছেঁড়া বা তথ্য পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ পরীক্ষাও যথাযথভাবে হয়নি বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা হয়নি। সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে সাম্প্রতিক অফিস সহকারী পদে জুয়েল হোসেনের নিয়োগ নিয়ে। অভিযোগকারীরা জানতে চাইছেন, নিয়োগ পরীক্ষাটি কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে।

মাদরাসার সুপার মো. আলী হাসানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিয়োগের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তিনি জানান, গত ১৬ নভেম্বর মাদরাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি মো. আবুল বাশারের মাধ্যমে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস সহকারী পদে জুয়েলের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

তবে জুয়েলের নিয়োগ নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি। শালিখা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী শফিউল আলম বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং মাদরাসার সুপারের সঙ্গে আলোচনা করে কাগজপত্র দেখছেন।

অন্যদিকে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিনা মমতাজ জানান, গত ১৬ নভেম্বর ডিজির প্রতিনিধির মাধ্যমে জুয়েলের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পরীক্ষায় তিনি প্রথম হয়েছেন। মাদরাসায় অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগকারীরা বলছেন, মাদরাসাটির শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগ থেকে শুরু করে যোগদানের নথি, শিক্ষাগত সনদ এবং সাম্প্রতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া—সবকিছুই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

তাদের দাবি, তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে আসে এবং জুয়েলের অফিস সহকারী পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা বিধিসম্মত ছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৪০
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:২৮
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৪৬
  • ১১:৪৬
  • ৩:৪৮
  • ৫:২৮
  • ৬:৪২
  • ৬:০০

দক্ষিণ শরুশুনা মাদরাসায় নিয়োগ ও নথি নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:০০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

মাগুরার শালিখা উপজেলার দক্ষিণ শরুশুনা দাখিল মাদরাসায় শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, যোগদানের তারিখ, শিক্ষাগত সনদ এবং বিভিন্ন নথিপত্র নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে অফিস সহকারী পদে জুয়েল হোসেনের নিয়োগ নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

অনুসন্ধানে পাওয়া বিভিন্ন নথি ও অভিযোগের ভিত্তিতে দাবি করা হচ্ছে, মাদরাসাটির কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর প্রকৃত যোগদানের সময়ের সঙ্গে নথিতে উল্লেখ করা যোগদানের তারিখের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। কারও কারও ক্ষেত্রে চাকরিতে যোগদানের কয়েক বছর আগের তারিখ দেখানোর অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, কয়েকজন শিক্ষককে নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন হয়েছে এবং কারও কারও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কৃষি ও কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ভুয়া বা জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এ ছাড়া মাদরাসার রেজুলেশন ও হাজিরা খাতা পরিবর্তন এবং পুরোনো নথিতে কাটাছেঁড়া বা তথ্য পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ পরীক্ষাও যথাযথভাবে হয়নি বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা হয়নি। সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে সাম্প্রতিক অফিস সহকারী পদে জুয়েল হোসেনের নিয়োগ নিয়ে। অভিযোগকারীরা জানতে চাইছেন, নিয়োগ পরীক্ষাটি কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে।

মাদরাসার সুপার মো. আলী হাসানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিয়োগের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তিনি জানান, গত ১৬ নভেম্বর মাদরাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি মো. আবুল বাশারের মাধ্যমে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস সহকারী পদে জুয়েলের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

তবে জুয়েলের নিয়োগ নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি। শালিখা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী শফিউল আলম বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং মাদরাসার সুপারের সঙ্গে আলোচনা করে কাগজপত্র দেখছেন।

অন্যদিকে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিনা মমতাজ জানান, গত ১৬ নভেম্বর ডিজির প্রতিনিধির মাধ্যমে জুয়েলের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পরীক্ষায় তিনি প্রথম হয়েছেন। মাদরাসায় অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগকারীরা বলছেন, মাদরাসাটির শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগ থেকে শুরু করে যোগদানের নথি, শিক্ষাগত সনদ এবং সাম্প্রতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া—সবকিছুই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

তাদের দাবি, তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে আসে এবং জুয়েলের অফিস সহকারী পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা বিধিসম্মত ছিল।