৫ অক্টোবর থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের পে-ফিক্সেশন

- আপডেট সময় : ০৭:১৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫৩৫ বার পড়া হয়েছে

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে ৫ অক্টোবর। চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইবাস প্লাস প্লাস পোর্টালে প্রবেশ করে চাকরিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই ও পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে। এর ভিত্তিতেই নতুন স্কেলে বেতন এবং প্রাপ্য বকেয়া অর্থের হিসাব চূড়ান্ত করা হবে।
অর্থ বিভাগের ১৯ সেপ্টেম্বর জারি করা ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এর আলোকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এই পে-ফিক্সেশন। সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার আইবাস++ ব্যবস্থায় বর্তমানে ২০২৬ সালের পে-ফিক্সেশনের সেবাও চালু রয়েছে।
পে-ফিক্সেশনের সময় সরকারি চাকরিজীবীদের নিজেদের চাকরিসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে হবে। এর মধ্যে থাকবে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, জন্মতারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, বর্তমান মূল বেতন, আগের পে-ফিক্সেশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পদোন্নতি, বদলি, টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেডের তথ্য।
এসব তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রও প্রস্তুত রাখতে হবে। কারণ তথ্য ভুল, অসম্পূর্ণ বা পুরোনো রেকর্ডের সঙ্গে অসংগত হলে পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
আইবাস++-এর পে-ফিক্সেশন ব্যবস্থায় সরকারি কর্মচারীরা নিজেদের চাকরিসংক্রান্ত তথ্য রেকর্ড করতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় সেই তথ্য যাচাই ও প্রতিপাদন করে।
পে-ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে প্রথমে আইবাস++-এর নির্ধারিত পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। পরিচয় যাচাইয়ের পর চাকরিসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। এরপর আগের বেতন ও চাকরির ইতিহাসের সঙ্গে মিল রেখে নতুন বেতন কাঠামোয় প্রযোজ্য গ্রেড ও ধাপ নির্ধারণ করা হবে।
পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, টাইমস্কেল কিংবা সিলেকশন গ্রেডের মতো বিষয় থাকলে সেগুলোর তথ্যও দিতে হবে। সব তথ্য জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা যাচাই করবে। কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করতে হতে পারে। যাচাই শেষে পে-ফিক্সেশন চূড়ান্ত করা হবে।
এদিকে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের পর বর্ধিত বেতন ও বকেয়া পাওনা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার পর হিসাব অনুযায়ী প্রায় তিন মাসের বকেয়া একসঙ্গে দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে কার কত টাকা বকেয়া হবে তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গ্রেড, মূল বেতন, নতুন স্কেলে নির্ধারিত বেতন এবং কার্যকর তারিখের ওপর।
পে-ফিক্সেশন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনলাইনে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, পে-ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে কর্মচারীর তথ্য ও সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ সঠিক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের যাচাইয়ের মাধ্যমে পে-ফিক্সেশন দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অক্টোবর থেকেই নতুন স্কেলে বেতন পাওয়ার জন্য ২০ অক্টোবরের মধ্যে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে।
তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার ওপরই এখন জোর দেওয়া হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের।



























