পরীক্ষা থেকে ফরম ফিলাপ, ইন্টার্নি সনদ নানা অভিযোগে মাগুরার আয়ুর্বেদিক কলেজ

- আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫৩৪ বার পড়া হয়েছে

মাগুরার প্রফুল্ল সিংহ আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, পরীক্ষায় অনিয়ম, ইন্টার্নি সনদ আটকে রাখা এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কারণে কলেজটির ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহলের কেউ কেউ।
অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়মিতভাবে কলেজের কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়া, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া এবং ফরম ফিলাপের টাকা নির্ধারিত সময়ে বোর্ডে না পাঠানোর মতো ঘটনা ঘটছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঝিনাইদহের বামনআইল গ্রামের সাবেক শিক্ষার্থী কানাই বিশ্বাসের অভিযোগ, ভর্তি ও পরীক্ষার ফরম ফিলাপের সময় তার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে এবং এসব অর্থের বিপরীতে তাকে কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি। তার দাবি, অতিরিক্ত অর্থের চাপের কারণে একপর্যায়ে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।
আরেক শিক্ষার্থী মাগুরা পুলিশ লাইন এলাকার খিজির হাসানের অভিযোগ, ২০২২ সালে ডিএএমএস পাস করলেও এখনো তিনি ইন্টার্নি সনদপত্র পাননি। তার অভিযোগ, সনদ পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কলেজের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের নকলের সুযোগ দেওয়া হয়। এমনকি বই ও ফটোকপি দেখে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পরীক্ষার হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের পর্যাপ্ত সময় অবস্থান না করার অভিযোগও রয়েছে।
এমন অভিযোগের বিষয়ে মাগুরার জেলা প্রশাসক ও কলেজের সভাপতি মোতাকাব্বীর আহমেদ জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি কয়েক দিন আগে জানতে পেরেছেন। তিনি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন এবং অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে পরীক্ষার সময় তিন ঘণ্টা পরীক্ষার হলরুমে ম্যাজিস্ট্রেট রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
এর আগে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও প্রফুল্ল সিংহ আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের পরীক্ষা নিয়ে নকলের অভিযোগ ওঠে। তখন কলেজের অধ্যক্ষ মো. বাবুল হোসেন অভিযোগটি অস্বীকার করে জানিয়েছিলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো নকল হচ্ছে না। এদিকে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগ এবং বেতন-ভাতা নিয়েও নানা অভিযোগ তুলেছেন অভিযোগকারীরা। কয়েকজন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কলেজের অধ্যক্ষ বাবুল হোসেনের সঙ্গে সরাসরি ও মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারীরা বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
























