শতখালী মাদরাসায় অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

- আপডেট সময় : ১১:২০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৫৪৭ বার পড়া হয়েছে

মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের শতখালী দারুল উলুম দাখিল মাদরাসায় বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসাটিতে শিক্ষক উপস্থিতি, প্রক্সি শিক্ষক, নিয়োগ এবং সরকারি অনুদানের অর্থ ব্যয় নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মাদরাসার কৃষি শিক্ষক শিল্পী প্রায় ২০ বছর চাকরি করার পর গত পাঁচ বছর ধরে নিয়মিতভাবে তার পরিবর্তে শতখালী গ্রামের সোহাগ নামের এক ব্যক্তি প্রক্সি দিয়ে আসছেন। এছাড়া সহকারী সুপার মনিরুজ্জামানের ছেলে শাকিবও প্রায় এক বছর ধরে প্রক্সি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
লাইব্রেরিয়ান আল আমিনের বিরুদ্ধেও অনিয়মিত মাদরাসায় আসার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগের সময় তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নেওয়া হলেও এখনো তার বেতন হয়নি। মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান ১৯৯১ সালের ১৮ জুলাই থেকে দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধেও নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক হিসেবে প্রতিদিন ক্লাস নেওয়ার নিয়ম থাকলেও তিনি প্রায়ই সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে মাদরাসা ত্যাগ করেন।
এদিকে মাদরাসার ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়েও জটিলতার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পারফরম্যান্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইন্সটিটিউশনস বা পিবিজিএসআই স্কিমের আওতায় পাওয়া পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে মাদরাসা ব্যবস্থাপনা জবাবদিহি অনুদানের এই অর্থ শিক্ষক প্রণোদনা, বইপত্র ও লাইব্রেরি, শিক্ষার্থীদের সুবিধা, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয়ের নির্দেশনা ছিল।
২০২৩ সালের ১৯ জুন স্কিম পরিচালক অধ্যাপক চিত্ত রঞ্জন স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় এসব অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যয়ের কথা বলা হলেও অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে এসব অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান। মোবাইল ফোনে তিনি দাবি করেন, কৃষি শিক্ষক শিল্পী নিয়মিত মাদরাসায় আসেন। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত ও অসুস্থ হওয়ায় কোনো কোনো ক্লাস অন্য শিক্ষক নেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মাদরাসায় গিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সুপারকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে আরও তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে প্রকাশ করা হবে দ্বিতীয় পর্বের প্রতিবেদন।

























