আখিরাতে প্রিয় নবীর সান্নিধ্য লাভের পথ কোনটি?

- আপডেট সময় : ০৫:৪৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৫৩০ বার পড়া হয়েছে

দুনিয়ার আবেগ, সম্পর্ক ও ভালোবাসা অনেক সময়ই ক্ষণস্থায়ী। সময়ের পরিবর্তনে বদলে যায় মানুষের অনুভূতি, সম্পর্কের সমীকরণও। তবে মহান আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি একজন মুমিনের গভীর ভালোবাসা শুধু দুনিয়ার অনুভূতি নয়; বরং এই ভালোবাসা আখিরাতের চিরস্থায়ী কল্যাণের আশাও জাগিয়ে তোলে।
নবীপ্রেমের এই আশাব্যঞ্জক বার্তা পাওয়া যায় সহিহ মুসলিমে বর্ণিত একটি হাদিসে। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে কিয়ামত কখন হবে জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে মহানবী (সা.) তাকে প্রশ্ন করেন, কিয়ামতের জন্য তিনি কী প্রস্তুতি নিয়েছেন।
লোকটি বিনয়ের সঙ্গে জানান, তিনি খুব বেশি নামাজ, রোজা কিংবা সদকা প্রস্তুত করতে পারেননি। তবে তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে সুসংবাদ দিয়ে বলেন— ‘তুমি যার সঙ্গে ভালোবেসেছ, আখিরাতে তুমি তার সঙ্গেই থাকবে।’
সহিহ মুসলিমে বর্ণিত এই হাদিস সাহাবিদের জন্য ছিল অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। হজরত আনাস (রা.) বলেছেন, ইসলাম গ্রহণের পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণীর চেয়ে আনন্দদায়ক আর কোনো কথা সাহাবিদের মনে এত গভীর আনন্দ সৃষ্টি করেনি।
তবে এই হাদিসের অর্থ কখনোই এমন নয় যে শুধু ভালোবাসার দাবি করলেই আমল ও দ্বীনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাবে। বরং প্রকৃত নবীপ্রেম মানুষের জীবনাচরণে প্রকাশ পায়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা একজন মুমিনকে তাঁর সুন্নাহ অনুসরণে উৎসাহিত করবে। তাকে পাপ, অন্যায় ও অনৈতিকতা থেকে দূরে রাখবে এবং উত্তম চরিত্র গঠনে অনুপ্রাণিত করবে।
অর্থাৎ মুখের ভালোবাসার পাশাপাশি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নবীজির আদর্শ অনুসরণের চেষ্টা করাই হবে সেই ভালোবাসার বাস্তব প্রমাণ। দুনিয়ার ব্যস্ততা ও মোহের ভিড়ে তাই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা, তাঁর আদর্শ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা এবং আল্লাহর আনুগত্যে অবিচল থাকা একজন মুমিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
খাঁটি ভালোবাসা ও সুন্নাহর অনুসরণের এই সমন্বয়ই হতে পারে আখিরাতের সফলতার পথে মুমিনের পরম পাথেয়। আর সেই ভালোবাসার সবচেয়ে বড় আশা—কিয়ামতের দিন প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সান্নিধ্য লাভ।



























