প্রয়াণ দিবসে চারণের লালন স্মরণ – ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ মোকাবিলা ছাড়া গণতান্ত্রিক ও মুক্ত চিন্তার সমাজ নির্মাণ করা সম্ভব নয়

- আপডেট সময় : ১২:০০:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫০৫ বার পড়া হয়েছে

মাহ্তাব ইসলামঃ
ফকির লালনের ১৩৬তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্যোগে আজ ১৭ই অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। চারণের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিখিল দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আলোচনা করেন চারণের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শাহজাহান কবির, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, চারণের সহ-সভাপতি কবি কামরুজ্জামান ভূঞা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালা শাখার আহ্বায়ক অদিতি ইসলাম।

আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ফকির লালন এক অসাধারণ বিস্ময়কর প্রতিভাবান ব্যক্তি। তিনি একশত বছরে প্রায় ১০ হাজার গান রচনা করেছিলেন। তাঁর গান শুনে আমরা পাই -তিনি শক্তিমান কবিসত্ত্বার অধিকারী ছিলেন, ছিল তাঁর সূক্ষ্ম কাব্যবোধ। উপমা-অলংকার তিনি অত্যন্ত সুন্দর ভাবে প্রয়োগ করতে পারতেন। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে তাঁর অগাধ জ্ঞান ছিল। তিনি গানের সহজ কথায় কঠিন বিষয় বলতে পারতেন। অসাম্প্রদায়িক, জাত-পাতের বিরুদ্ধে লড়াকু সৈনিক ছিলেন তিনি। অন্নদাশংকর রায় লিখেছেন: ‘বাংলার নবজাগরণে রাম মোহনের যে গুরুত্ব, বাংলার লোক মানসের দেয়ালী উৎসবে লালনেরও সেই গুরুত্ব। দুই যমজ সন্তানের মতো তাঁদের দুজনের জন্ম। রাম মোহন-বিদ্যাসাগর ইউরোপের আধুনিক জ্ঞানের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন, কিন্তু লালন ছিলেন নিরক্ষর। তবে তিনি বাংলার অসাম্প্রদায়িক লোক সংস্কৃতি থেকে রসদ সংগ্রহ করেছিলেন। হাজার বছরের বৌদ্ধ সহজিয়া – যা কর্তাভজা, বলাহাড়ি, নাথপন্থা, তান্ত্রিক ইত্যাদি লোক ধর্মের মাধ্যমে প্রকাশিত, দক্ষিণ ভারতের বৈষ্ণব ভাবধারা এবং আরব-পারস্য থেকে আসা সুফীবাদ মিলে আমাদের যে সাংস্কৃতিক অন্তস্রোত তৈরি হয়েছিল, লালন তারই সৃষ্টি।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, লালন মানুষের কথাই বলেছেন-‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’। তিনি জাত-পাতের বিরুদ্ধেই দাঁড়িয়েছিলেন- ‘জাত গেল জাত গেল বলে একি আজব কারখানা’। তিনি সত্যের সাধনা করেছিলেন, ‘সত্য বল সুপথে চল, ওরে আমার মন’। অথচ আজ আমরা দেখি মানুষে মানুষে বিভক্তি, বিদ্বেষ, ধর্ম-বর্ণ গোত্রের নামে। তৌহিদী জনতার নামে মাজার, মন্দির ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, ভিন্ন চিন্তার মানুষদের হত্যা, নারীর উপর আক্রমণ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাঁধা প্রদান করেই যাচ্ছে। এই উগ্র সম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী বিচারের আওতায় আসছে না। ফলে দ্বিগুণ উৎসাহে তারা তাদের অপকর্ম করে যাচ্ছে। এরা দিপু দাসকে পুড়িয়ে-পিটিয়ে মেরেছে, কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে ফেলছে। এদের ভয়ে বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরা মুক্ত পরিবেশে ক্লাস রুমে পড়াতে পারছেন না। দেশের জনগণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে গণ অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে উচ্ছেদ করলেও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ জাতির ঘাড়ে চেপে বসেছে। এই ধর্মীয় ফ্যাসিবাদকে মোকাবিলা ছাড়া গণতান্ত্রিক ও মুক্ত পরিবেশের সমাজ নির্মাণ সম্ভব নয়।
নেতৃবৃন্দ লালনের অসাম্প্রদায়িক চেতনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে উগ্র সাম্প্রদায়িক মব সৃষ্টিকারী অপশক্তির বিরুদ্ধে শহর-গ্রামে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য জনগণের প্রতি উদাও আহ্বান জানান।






















