সুন্দরবন ঘিরে রিসোর্ট ব্যবসায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান

- আপডেট সময় : ১১:৪৯:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫২৭ বার পড়া হয়েছে

সুন্দরবন ঘেঁষে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ১৮টি অনুমোদনহীন রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এর মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ দিনের মধ্যে সব স্থাপনা সরিয়ে নিতে এবং নতুন তৈরি হওয়া আটটি রিসোর্টকে ১৫ দিনের মধ্যে স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ রিসোর্ট মালিকদের লিখিতভাবে এ নির্দেশ দেন। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা অপসারণ না করলে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, নিয়মিত মামলা করাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের আওতাধীন সুন্দরবনের ঢাংমারী, কৈলাসগঞ্জ ও বাণিশান্তা এলাকায় এসব রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে অরণ্যছায়া, অরণ্যবাড়ী, কেওড়াবন, মায়াবন, গহন, দ্য ফরেস্ট রিট্রিট, নিকুঞ্জ ভ্যালি, লা সিলভা কটেজ, বনবিবি, সুন্দরী, ইরাবতী, বনমালী, গোলকানন, পিয়ালী, ম্যানগ্রোভ, জঙ্গলবাড়ী, বনবাস ও বনলতা ইকো কটেজ।
এর আগে অনুমোদন ছাড়া রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। রিসোর্ট মালিকরা জবাব দেওয়ার পাশাপাশি অনুমোদনের আবেদন করলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে পারেননি। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর তাদের আবেদন বাতিল করা হয়।
এদিকে নতুন তৈরি হওয়া আটটি রিসোর্টকে সাত দিনের মধ্যে গ্রহণযোগ্য স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবার এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ১৫ দিনের মধ্যে স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় অনুমোদনহীন রিসোর্ট নির্মাণের পাশাপাশি সুন্দরবনের ভেতরের নদী ও খালে পর্যটকবাহী নৌযানের অবাধ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ডলফিন অভয়ারণ্য ঘোষিত ঢাংমারী খালে পর্যটকবাহী ট্রলারের চলাচল সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে পরিবেশবিদদের অভিযোগ।
অন্যদিকে কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপের ম্যানগ্রোভ বন বা প্যারাবন থেকে অবৈধ চিংড়ি ঘের উচ্ছেদেও নৌবাহিনীকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো প্রস্তাব অনুমোদনের পর উচ্ছেদ অভিযানের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি চলছে।
২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সোনাদিয়ায় অন্তত ছয় হাজার একর প্যারাবন কেটে প্রায় ৫০টি চিংড়ি ঘের গড়ে তোলার তথ্য উঠে এসেছে। পরিবেশবিদদের মতে, শুধু অবৈধ ঘের উচ্ছেদ করলেই হবে না। কেটে ফেলা প্যারাবন পুনরুদ্ধার, জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং উচ্ছেদের পর নতুন করে দখল ঠেকাতে স্থায়ী নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
পরিবেশ সংশ্লিষ্টদের মতে, সুন্দরবন ও সোনাদিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ব্যবস্থাপনা এলাকায় উন্নয়ন বা পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশগত অনুমোদন এবং জীববৈচিত্র্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ দখল উচ্ছেদের পর যাতে আবারও দখল না হয় সে জন্য বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত তদারকি প্রয়োজন।





















