অ্যাপেনডিক্স ফেটে কিশোরীর মৃত্যু, হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুর

- আপডেট সময় : ০২:১১:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫২৫ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মাহিমার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। স্বজনদের অভিযোগ, অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সময়মতো অস্ত্রোপচার না করায় মাহিমার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে আনার সময়ই তার অবস্থা গুরুতর ছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শুক্রবার ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রচণ্ড পেটব্যথা নিয়ে মাহিমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের পরামর্শে আলট্রাসনোগ্রাফি করা হলে অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগেই শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, মাহিমার মৃত্যুর পর স্বজনরা লাশ নিয়ে গাজীপুরে চলে যান এবং রাতে দাফন সম্পন্ন করেন। পরে রাত ১০টার দিকে শাহজাহানপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের পরিচয় দিয়ে শাহরিয়ার সবুজ নামে এক ব্যক্তি হাসপাতালে এসে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও পরদিন বিকেলে প্রায় ১০০ লোক হাসপাতালে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠে। পরে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় উঠে ভাঙচুর চালানো হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
তবে টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহরিয়ার সবুজ। তার দাবি, মাহিমা তার চাচাতো বোন। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিলেও রাতে অস্ত্রোপচার না করায় পরদিন সকালে মাহিমার মৃত্যু হয়। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাইতে গেলে হাসপাতালের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ১০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগের বিষয়ে শাহরিয়ার সবুজ বলেন, তিনি কোনো টাকা চাননি। বরং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছিল বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার সময় হাসপাতালে থাকা অন্য এক রোগীর স্বজন তৌফিক মেজবাহ বলেন, মাহিমার মৃত্যুর পর রাতে একদল লোক হাসপাতালে এসে টাকা দাবি করে। পরে সন্ধ্যার পর আবার তারা এসে কয়েকজনকে মারধর ও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসপাতালের স্টাফরা তাদের ধাওয়া দেন। ঘটনাটি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও মাহিমার স্বজনদের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না এবং ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।





















