ঢাকা ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফুলবাড়ীতে মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে প্রাণ বঙ্গ মিলার্স লিমিটেড এর কর্মকর্তাদের সৌজন্যে সাক্ষাৎ ফুলবাড়ীর সীমান্তে বিজিবি পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫ লক্ষ ৩৯ হাজার ৮ শত ৯০ টাকার মাদক আটক করেন বাগদান ও বিবাহসংক্রান্ত অভিযোগ এবং কূটনৈতিক মর্যাদার অপব্যবহার চোর সন্দেহে রংপুরে ৩ জনকে পিটিয়ে হত্যা ফুলবাড়ীতে মাইক্রোওয়েভ স্টেশনটি সংস্কার না করায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৭৭, মামলা ৩৪ সারাদেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুর্গাপূজা উৎসব আটোয়ারীতে নসিমনের (ভটভটি) ধাক্কায় সাইকেল আরোহীর মৃত্যু

এলপিজির দাম বেড়ে ১৮৩৭ টাকা, সংকট কাটেনি

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৫২৫ বার পড়া হয়েছে

দেশে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির সরবরাহে ঘাটতি চলছে। এর মধ্যেই ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসি। নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।

তবে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডারের জন্য ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। সোমবার ৫ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও দেশের কয়েকটি জেলার খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, পাইপলাইনের গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া কিংবা অনেক এলাকায় গ্যাস না থাকায় রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। আর এই সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন।

এর আগে ১২ কেজির সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু সরবরাহ সংকটের কারণে বাজারে সেটি ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা এবং অটোগ্যাসের দাম প্রতি কেজি ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজধানীর জোয়ার সাহারার বাসিন্দা খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, নতুন দাম নির্ধারণের পর সিলিন্ডার কিনবেন বলে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু কিনতে গিয়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ টাকা বেশি চাওয়া হয়েছে। মিরপুরের বাসিন্দা মামুন আবদুল্লাহ জানান, পুরোনো সিলিন্ডার শেষ হওয়ার পর নতুন সিলিন্ডার কিনতে গেলে দোকানি ২ হাজার ৫০০ টাকা দাম চেয়েছেন। এর চেয়ে এক টাকাও কমানো যাবে না বলেও জানানো হয়।

এলপিজি ব্যবসায়ীদের হিসাবে, দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ এলপিজি ব্যবহার করেন। এর প্রায় ৮০ শতাংশ রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। এলপিজির প্রায় ৯৯ শতাংশই বেসরকারি খাত আমদানি করে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, গত দুই মাসে আমদানি কমেনি। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ১ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে।

আমদানি স্বাভাবিক থাকার পরও সরবরাহ সংকটের কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবসায়ীদের একটি অংশের দাবি, ২০ সেপ্টেম্বর থেকে কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমাতে শুরু করে। প্রথমে প্রায় ৩০ শতাংশ কমানো হলেও পরে তা ৫০ শতাংশের বেশি হয়েছে। বিভিন্ন ডিপোতে ডিলারদের ট্রাক দিনের পর দিন অপেক্ষা করায় পরিবহণ ব্যয়ও বেড়েছে। রাজধানীর বাইরেও একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। নারায়ণগঞ্জের এক ব্যবসায়ী জানান, নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাভারের এক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, তার কাছে বর্তমানে কোনো সিলিন্ডার নেই।

মোহাম্মদপুরের খুচরা ব্যবসায়ী কামাল বলেন, সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না এবং বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে সরকারি নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। সরবরাহ সংকটের কারণ খতিয়ে দেখতে ১২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে পুরো মাসের দৈনিক আমদানি ও সরবরাহের তথ্য দিতে চিঠি দিয়েছে বিইআরসি। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে তথ্য দিয়েছে। এসব তথ্য যাচাই করে মজুতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই করা হবে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। এদিকে লোয়াব সভাপতি আমিরুল হকও সরবরাহ বাড়ার আশা প্রকাশ করেছেন। আমদানিকারকদের কয়েকজন জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে জাহাজ ভাড়া বাড়লেও এলপিজি আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলমের দাবি, পর্যাপ্ত আমদানির পরও বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজারে দামও কমে আসার কথা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নতুন নির্ধারিত দাম কার্যকর হওয়ার পর বাজারে এলপিজির সরবরাহ কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়। খাতসংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ বাড়লে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রির প্রবণতাও কমে আসবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৪০
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:২৮
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৪৬
  • ১১:৪৬
  • ৩:৪৮
  • ৫:২৮
  • ৬:৪২
  • ৬:০০

এলপিজির দাম বেড়ে ১৮৩৭ টাকা, সংকট কাটেনি

আপডেট সময় : ১০:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

দেশে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির সরবরাহে ঘাটতি চলছে। এর মধ্যেই ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসি। নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।

তবে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডারের জন্য ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। সোমবার ৫ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও দেশের কয়েকটি জেলার খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, পাইপলাইনের গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া কিংবা অনেক এলাকায় গ্যাস না থাকায় রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। আর এই সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন।

এর আগে ১২ কেজির সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু সরবরাহ সংকটের কারণে বাজারে সেটি ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা এবং অটোগ্যাসের দাম প্রতি কেজি ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজধানীর জোয়ার সাহারার বাসিন্দা খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, নতুন দাম নির্ধারণের পর সিলিন্ডার কিনবেন বলে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু কিনতে গিয়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ টাকা বেশি চাওয়া হয়েছে। মিরপুরের বাসিন্দা মামুন আবদুল্লাহ জানান, পুরোনো সিলিন্ডার শেষ হওয়ার পর নতুন সিলিন্ডার কিনতে গেলে দোকানি ২ হাজার ৫০০ টাকা দাম চেয়েছেন। এর চেয়ে এক টাকাও কমানো যাবে না বলেও জানানো হয়।

এলপিজি ব্যবসায়ীদের হিসাবে, দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ এলপিজি ব্যবহার করেন। এর প্রায় ৮০ শতাংশ রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। এলপিজির প্রায় ৯৯ শতাংশই বেসরকারি খাত আমদানি করে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, গত দুই মাসে আমদানি কমেনি। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ১ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে।

আমদানি স্বাভাবিক থাকার পরও সরবরাহ সংকটের কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবসায়ীদের একটি অংশের দাবি, ২০ সেপ্টেম্বর থেকে কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমাতে শুরু করে। প্রথমে প্রায় ৩০ শতাংশ কমানো হলেও পরে তা ৫০ শতাংশের বেশি হয়েছে। বিভিন্ন ডিপোতে ডিলারদের ট্রাক দিনের পর দিন অপেক্ষা করায় পরিবহণ ব্যয়ও বেড়েছে। রাজধানীর বাইরেও একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। নারায়ণগঞ্জের এক ব্যবসায়ী জানান, নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাভারের এক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, তার কাছে বর্তমানে কোনো সিলিন্ডার নেই।

মোহাম্মদপুরের খুচরা ব্যবসায়ী কামাল বলেন, সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না এবং বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে সরকারি নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। সরবরাহ সংকটের কারণ খতিয়ে দেখতে ১২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে পুরো মাসের দৈনিক আমদানি ও সরবরাহের তথ্য দিতে চিঠি দিয়েছে বিইআরসি। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে তথ্য দিয়েছে। এসব তথ্য যাচাই করে মজুতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই করা হবে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। এদিকে লোয়াব সভাপতি আমিরুল হকও সরবরাহ বাড়ার আশা প্রকাশ করেছেন। আমদানিকারকদের কয়েকজন জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে জাহাজ ভাড়া বাড়লেও এলপিজি আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলমের দাবি, পর্যাপ্ত আমদানির পরও বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজারে দামও কমে আসার কথা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নতুন নির্ধারিত দাম কার্যকর হওয়ার পর বাজারে এলপিজির সরবরাহ কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়। খাতসংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ বাড়লে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রির প্রবণতাও কমে আসবে।