ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে সম্পাদিত চ্ট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইজারা চুক্তি বাতিল ও বিডার সামনে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধ বিরোধী জোট সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত; বন্দর শ্রমিকদের আগামীকালের অনশন কর্মসূচির প্রতি সমর্থন; ৩০ অক্টোবর ঢাকায় শহীদ মিনারে সমাবেশ সফল করার আহ্বান

- আপডেট সময় : ১০:১৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫২৬ বার পড়া হয়েছে

ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে সম্পাদিত চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইজারা চুক্তি বাতিল ও বিডা ঘেরাওয়ের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের উদ্যোগে আজ ১১ অক্টোবর ২০২৬ কেন্দ্র ঘোষিত সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে বেলা ৪:৩০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধ বিরোধী জোটের সমন্বয়ক, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের নেতা বেলাল চৌধুরী, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মঞ্জুর মঈন, বাসদ (মাহবুব) এর সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূইয়া, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, জাতীয় গণফ্রন্টের নেতা আমিরুন নুজহাত মনিষা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ। সমাবেশ পরিচালনা করেন কমিউনিষ্ট লীগের নেতা শামিম ইমাম। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরানা পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, লাভজনক নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেয়ার মাধ্যমে বর্তমান সরকার জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। সবার আগে বাংলাদেশ শ্লোগান দিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থ বিদেশিদের হাতে তুলে দিচ্ছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে আমেরিকার নৌবাহিনীর চুক্তি থাকায় আমাদের দেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও এটি মারাত্মক হুমকি। বন্দর পরিচালনার নামে বিদেশি কোম্পানির হাতে কর্তৃত্ব তুলে দিতেই সরকার চুক্তি করছে। দেশ বিক্রির এই চুক্তির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে রাজপথে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামে বন্দর শ্রমিক, চট্টগ্রাম স্কপ এবং সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের আহ্বানে আগামীকাল ১২ অক্টোবর অনশন কর্মসূচির প্রতি সম্পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করেন।
নেতৃবৃন্দ বন্দর ইজারা চুক্তির এইদিনকে কালো দিন হিসেবে উল্লেখ করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ভবনকে ‘কাশিম বাজার কুটি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বন্দর ইজারা চুক্তির হোতা কুখ্যাত আশিক চৌধুরীসহ চুক্তির হোতাদেরকে ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের মতোই সার্বভৌমত্ব বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, জনগণ এইসব দেশদ্রোহিদের বিচার একদিন বাংলার মাটিতে করবেই। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশি বাধা ও আক্রমণ আইন করে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ শান্তিপূর্ণ সমাবেশের সময় সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে পুলিশের লাঠিচার্জ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূল শাস্তির দাবি করেন। একই সাথে বন্দর ইজারা চুক্তি থেকে সরে না আসলে বন্দর শ্রমিক, বন্দর ব্যবহারকারী ও সকল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল ও জনগণের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারী প্রদান করেন নেতৃবৃন্দ।
সমাববেশ থেকে নেতৃবৃন্দ আগামী ৩০ অক্টোবর ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের কেন্দ্রীয় সমাবেশ সফল করার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।





















