অযৌক্তিকভাবে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ালে জবাবদিহি

- আপডেট সময় : ১১:২৭:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৫২৫ বার পড়া হয়েছে

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপিতে পরামর্শক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো এবং যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেকের সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। একই দিনে একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের তথ্যও জানানো হয়।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত পরামর্শক ব্যয় পর্যালোচনা করে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ অযৌক্তিকভাবে বাড়ানোর বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো যাবে না। যথাযথ কারণ ছাড়া মেয়াদ বাড়ানো হলে এর জন্য দায়ী কর্মকর্তা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
এখন থেকে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে নির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। এসব কারণ কঠোরভাবে যাচাই করা হবে বলেও জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। সরকার অনুমোদিত সময়সীমা ও বাজেটের মধ্যে চলমান এবং নতুন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়েও নতুন করে ভাবার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে সম্ভাব্যতা যাচাই না করে পর্যাপ্ত গভীরতা ও কারিগরি নির্ভুলতার সঙ্গে তা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাস্তবায়ন জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে বলে জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।
এদিকে যশোর সৈয়দপুর ও রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে প্রক্রিয়াগত অনিয়মের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট তিন বিমানবন্দরের রানওয়ে উন্নয়ন প্রকল্পটি সরকারি নথিতেও রয়েছে। জোনায়েদ সাকি বলেন, ২০২৩ সালে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি বা সিসিজিপি যে বাজেট সমন্বয় করেছিল তা যথাসময়ে ডিপিপিতে প্রতিফলিত হয়নি। এ কারণে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ বা আইএমইডি ইতোমধ্যে আটটি প্রকল্পের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছে। আরও চারটি প্রকল্পের প্রতিবেদন শিগগিরই জমা দেওয়া হবে। এসব প্রতিবেদন প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ তুলে ধরে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, রংপুর বিভাগের গ্রামীণ এলাকায় সড়ক কালভার্ট ও সেতু নির্মাণে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া ডিজিটাল শাসন ও আর্থিক তদারকি জোরদারে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটির অধীনে আটটি গুরুত্বপূর্ণ অটোমেশন উদ্যোগকে সমন্বিত করার কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বা সিএজি সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা আইবাস++ বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ওয়ান সিটিজেন ওয়ান নম্বর ওয়ান ওয়ালেটভিত্তিক অটোমেশন ব্যবস্থা।
এসব ডিজিটাল ব্যবস্থার মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা বিতরণে মানুষের হস্তক্ষেপ কমানো এবং ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল তদারকি জোরদার করা সম্ভব হবে বলে জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ বা এনপিএল এবং আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে তদারকি আরও জোরদার করতেও এসব উদ্যোগ সহায়ক হবে বলে জানান তিনি।





















