

ব্যাংকগুলোর ঋণ ও আমানতের সুদহারের গড় ব্যবধান বা স্প্রেড সর্বোচ্চ চার শতাংশে রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, বেশির ভাগ ব্যাংক এখনো এ নির্দেশনা পরিপালন করতে পারেনি। জুলাই মাসে ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তাঋণ বাদে ব্যাংক খাতের গড় সুদ স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আগের মাস জুনে এই ব্যবধান ছিল ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে জুলাইতে ব্যাংক খাতে আমানতের গড় সুদহার ছিল ৬ দশমিক ২১ শতাংশ। বিপরীতে ঋণের গড় সুদহার ছিল ১১ দশমিক ৮১ শতাংশ। ফলে সামগ্রিকভাবে ঋণ ও আমানতের সুদ ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। ক্রেডিট কার্ড বাদ দিলে ঋণের গড় সুদহার ছিল ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং স্প্রেড ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তাঋণ বাদ দিলে ঋণের গড় সুদহার দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে স্প্রেড হয়েছে ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
আরও পড়ুন,
রাষ্ট্রীয় মালিকানার ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের গড় স্প্রেড জুলাইতে ছিল ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের স্প্রেড সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের স্প্রেড ছিল ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড ছিল ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। তিনটি ব্যাংক ছাড়া অন্য অধিকাংশ ব্যাংকের স্প্রেডই চার শতাংশের নির্ধারিত সীমার ওপরে রয়েছে। এবি ব্যাংকের স্প্রেড ছিল শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং মেঘনা ব্যাংকের স্প্রেড ছিল ঠিক চার শতাংশ।
বিদেশি ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড ছিল সবচেয়ে বেশি—৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড ছিল ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ব্যাংকগুলোর স্প্রেড নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন ব্যাংকার। সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান জানিয়েছেন, বর্তমানে ব্যাংকগুলো ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে স্প্রেডের হিসাব করছে। অভিন্ন ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুন,
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমানও জানিয়েছেন, বর্তমানে গ্রস ভিত্তিতে আমানত ও ঋণের গড় হিসাব করে স্প্রেড নির্ধারণ করা হচ্ছে। নিট ভিত্তিতে হিসাব করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বছরের শুরুতে জানুয়ারিতে ব্যাংক খাতের গড় স্প্রেড ছিল ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ হয়। মার্চ ও এপ্রিল মাসে স্প্রেড ছিল ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। মে মাসে তা কমে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৭০ শতাংশে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিটি ব্যাংককে চার শতাংশের নির্ধারিত সীমা অবশ্যই পরিপালন করতে হবে। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। কোনো ব্যাংক নির্দেশনা না মানলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কাজী ফারিদ আহমেদ। নির্বাহী সম্পাদকঃ আব্দুর রাজ্জাক। যোগাযোগের ঠিকানা: আলম টাওয়ার, লিফট ৭(৮ তলা), রুম ৮০২, ১২০ মতিঝিল, ঢাকা ১০০০। Email: suanewsagency@gmail.com. Phone: 01766010676.
লাইসেন্স নম্বর: TL No-DSCC/002572/24.