সার কারখানায় সরবরাহকৃত গ্যাসের দাম, জ্বালানি ও সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করার দাবী জানিয়েছেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট।
সম্প্রতি সার কারখানায় সরবরাহকৃত গ্যাসের দাম এক লাফে ৮১% বৃদ্ধি করা, সকল প্রকার জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ২ টাকা বাড়ানো এবং সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ৯ টাকা বৃদ্ধির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ নেতৃবৃন্দ।
গত ৫ই ডিসেম্বর ২০২৫ গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের এক সভা ২৩/২ তোপখানা রোডস্থ বাসদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্কাফী রতন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ জাসদ-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসন, করিম সিকদার, বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, সম্পাদক নিখিল দাস, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পদাক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, সদস্য রাশেদ শাহরিয়ার, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী প্রমুখ।
সভার এক প্রস্তাবে সার কারখানায় সরবরাহকৃত গ্যাসের দাম, জ্বালানি ও সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।
সভার প্রস্তাবে বলা হয়, সার কারখনায় ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে উৎপাদিত সারের দাম বাড়বে, আর এর প্রভাব পড়বে কৃষি উৎপাদনে। একই সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমাগতভাবে জ্বালানি তেলের দাম কমার পরেও দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ২ টাকা বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাবও পড়বে কৃষি উৎপাদনে। অথচ কথা ছিল আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশের বাজারেও দাম সয়ংক্রিয়ভাবে কমবে। কিন্তু দেখা গেলো তার উল্টো চিত্র। উপরন্তু বিপিসি বর্তমানে লাভজনক অবস্থায় আছে, গত অর্থ বছরে বিপিসি সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে।
সভার প্রস্তাবে বিস্ময় প্রকাশ করে বলা হয় ৩-৪ দিন আগে ব্যবসায়ী বাজার সিন্ডিকেটের হোতারা সরকারকে না জানিয়েই সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ৯ টাকা বৃদ্ধি করে বাজারে বিক্রি শুরু করেছে। ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি বাণিজ্য উপদেষ্টা বলছেন দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। একই সাথে তিনি একদিকে দাম কমানোর জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি হুংকার দিচ্ছেন অন্যদিকে সিন্ডিকেটের কাছে নতজানু হয়ে ৯ টাকার স্থলে ৫ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন। যা ব্যবসায়ীদের স্বার্থকেই রক্ষা করলো এবং দেশের সাধারণ জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী।
সভা থেকে নেতৃবৃন্দ সার কারখানায় গ্যাস, জ্বালানি তেল ও সয়াবিনের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।












