মাহ্তাব ইসলামঃ
জামায়াতে ইসলাম আমিরের চরম অবমাননাকর, কুরুচিপূর্ণ নারী বিদ্বেষী বক্তব্যের প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট এর উদ্যোগে আজ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় প্রেসক্লাব এর সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা লাকী আক্তার, বাসদ (মার্কসবাদী) এর কেন্দ্রীয় নেতা সীমা দত্ত, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা শবনম হাফিজ, জাতীয় গণফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুন নুজহাত মনীষা। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট এর অন্যতম নেতা বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না, বাংলাদেশ জাসদ এর স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার । সমাবেশ পরিচালনা করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্য রুখশানা আফরোজ আশা।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, অভ্যুত্থানের পর থেকেই নারীদের পোশাক, কাজসহ নানাবিষয়ে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য পরিলক্ষিত হয়েছে। বিগত কিছুদিন ধরেই জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকেও নারীদের প্রতি অবমাননাকর, অশ্লীল নারীবিদ্বেষী বক্তব্য শোনা যাচ্ছিল। সম্প্রতি আল জাজিরায় দেয়া জামায়াতে আমীরের সাক্ষাৎকারে নারী দলের প্রধান হতে পারবেন না এবং সর্বশেষে তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্ট যেখানে কর্মজীবি নারীদের পতিতাবৃত্তির আরেক রূপ বলে অভিহিত করার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে গেছে তাদের আসল দৃষ্টিভঙ্গি। যা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। ইশতেহারের বক্তব্য যে ভোটের মাঠে জনগণকে ধোকা দেওয়ার জন্য শুধু তাদের ফাঁকা বুলি তা প্রমাণ করে দিয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তারা দেশের এবং দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য রাজাকার, আলবদর,আল সামস্ বাহিনী গড়ে তুলেছিল। নারীদের গণিমতের মাল বলে পাকিস্তানি সৈন্যদের ক্যাম্পে পাঠিয়েছিল। আর মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীদের হত্যায় সহযোগিতা করেছিল। দেশ এবং নারী সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গী তাদের এখনও একই রয়েছে। নারী শুধু ঘরের ভেতরে থাকা পুরুষের ভোগ্যবস্তু! সেকারণে তারা নারী ঘরে সময় দিলে সম্মানিত করার কথা বলেন, কর্মঘন্টা কমিয়ে ৫ ঘন্টায় কমানোর আশ্বাস দেন, ডাকসু আগে বেশ্যাখানা ছিল বলার দুঃসাহস দেখান তাদের বরগুনায় নেতা, নারী তাদের দলের প্রধান হওয়ার যোগ্য না বলেন। সর্বোপরি জানিয়ে দিলেন কর্মের জন্য বাইরে বের হওয়া নারীর জীবন পতিতাবৃত্তির আরেক রূপ! তাদের দলের নারীরা আবার বলে দিলেন তারা এগুলো মেনেই দল করছেন! এরপরও তারা দেশের ৫১ শতাংশ নারীর সমর্থন প্রত্যাশা করেন কীভাবে? নির্বাচনে তাদের কাছে ভোট চাইবেন কোন মুখে? নেতৃবৃন্দ আরোও বলেন, জামায়াতের নেতারা সবসময় নারীদের মা বোন আর তাঁদের সম্মানের কথা বলেন। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যায় নারীদের স্বাধীন অস্তিত্ব তারা স্বীকার করেন না। তাঁদের দেয়া এই তথাকথিত সম্মানের জন্য নারীরা অপেক্ষমান নয়। নারীরা শুধু সম্মান নয়, নারীরা চায় মর্যাদা, অধিকার।’
নেতৃবৃন্দ বলেন প্রশ্ন তুলেন, ‘ কর্মজীবি নারীরা মানসিকভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হন। তারা নিজের, সন্তান ও পরিবারের দায়িত্ব নেন। এর ফলে পুরুষের একক আধিপত্য কমে আসে বলেই কি জামায়াতের এত বিরোধিতা? নারীর মতামত এবং শক্তিকে এত ভয় কেন
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, নারীর কর্মক্ষেত্র নিরাপদ নয় এই সহজ সত্যি কথার বিপরীতে বক্তব্য হওয়ার কথা ছিল কর্মক্ষেত্র নিরাপদ করার জন্য কি উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। কিন্তু তারা সবসময়ই প্রগতির বিরুদ্ধে হাঁটবেন। তাই তারা ঘরে থাকার আয়োজন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। নারী তাদের কাছে ভোগ্যবস্তু ছাড়া আর কিছুই না। এই নারী বিদ্বেষী বক্তব্যের জন্য জামায়াত আমিরের প্রার্থীতা বাতিল করা প্রয়োজন।’
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, স্বাধীন দেশে যারা ক্ষমতায় এসেছে তারাই এই স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে বিভিন্নভাবে। এখনও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে গলাবাজি করার সাহস দেখাচ্ছে। দেশের জনগণ ও নারীসমাজের প্রতি আহ্বান এদেরকে আবারও চিনে নিন। এরা আপনার এবং গণতন্ত্রের তথা দেশ ও জাতির শত্রু। এদের মধ্যযুগীয় চিন্তাকে পরাজিত করতে বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক চিন্তাকে শক্তিশালী করুন। নির্বাচনে এদের বয়কট করুন।













