নারীর গৃহস্থালী কাজের আর্থিক মূল্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নিরূপন ও স্বীকৃতি, সরকারিভাবে ডে-কেয়ার সেন্টার, কর্মজীবি নারী হোস্টেল নির্মাণ, নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত, মা ও শিশু হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট এবং নারীর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজেট বরাদ্দের দাবিতে আজ ৮ মে ২০২৬ সকাল ১১.৩০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়| সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসু| বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: মনীষা চক্রবর্ত্তী, ঢাকা নগর শাখার দপ্তর সম্পাদক লাবনী আক্তার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ| সমাবেশ পরিচালনা করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ঢাকা নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রুখশানা আফরোজ আশা|
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘পরিবার পরিচালনায় গৃহস্থালি কাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজের ৮৫ ভাগ করেন নারীরা। সিপিডির গবেষণা অনুযায়ী গৃহে একজন নারী দিনে প্রায় ৪৫ ধরনের কাজ করেন। কিন্তু এই কাজের কোন স্বীকৃতি এবং মর্যাদা পরিবার এবং রাষ্ট্রে নেই। সে কারণেই পরিবারে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে গৃহিনী নারীদের অংশগ্রহণ তার স্বামী বা পরিবারের অন্য সদস্যরা খুব একটা গ্রহণ করেন না| অর্থাৎ সংসারে নারীদের দায়িত্ব যত আছে অধিকার সে পরিমানে নেই| বিশ্বের অনেক দেশেই বিবাহ বিচ্ছেদের পর স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সমান সম্পত্তি ভাগ করার আইন আছে| অর্থাৎ যদি ২০ বছর সংসার করার পর কোন স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তাহলে এই ২০ বছরে সৃষ্ট মোট সম্পত্তি সমান সমান ভাগ হবে| কিন্তু আমাদের দেশের বাস্তবতা হলো সংসার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নারীর শারীরিক-মানসিক শ্রম থাকা সত্ত্বেও নারীরা স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের পর সম্পত্তির প্রায় কোন অংশই পান না| ফলে গৃহিনীরা অসহায় হয়ে পড়েন| অথচ বিয়ের পর ঐ সংসারের যা কিছু সম্পদ-সম্পত্তি অর্জিত হয়েছে গৃহিনী নারীরও সেখানে পরিপূরক ভূমিকা আছে| গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মূল্য নিরূপণ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থাকলে পরিবারের ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন হতো| পারিবারিক নির্যাতনও কমতো|’
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘বাজেট শুধু অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, বাজেটের মাধ্যমে সরকারের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীও প্রতিফলিত হয়| দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর অগ্রযাত্রার সাথে দেশের এগিয়ে যাওয়াও যুক্ত| যেসব কারণে নারীরা কর্মক্ষেত্রে আসতে পারেন না বা কর্মক্ষেত্র থেকে ঝড়ে পড়েন ঐসব বাধাগুলো দূর করার কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার জন্য বাজেটে বরাদ্দ করা প্রয়োজন। পড়াশোনায় নারীদের রেজাল্ট ভালো হয় কিন্তু চাকরি ক্ষেত্রে সেই অনুপাতে পিছিয়ে পড়ে| কারণ পরিবারের দায়িত্ব তাকে পালন করতে হয়, সন্তানের দেখভালের দায়িত্ব তার ওপর থাকে| ফলে সুযোগ থাকলেও রাষ্ট্রের পরিপূরক আয়োজন যেমন ডে কেয়ার সেন্টার, নিরাপদ গণপরিবহন ইত্যাদি না থাকায় তাকে পিছিয়ে যেতে হয়| ট্রান্সফারের চাকরি নারীদের জন্য চিন্তা করাও কঠিন কারণ তার থাকার জায়গার নিরাপত্তা নেই| সরকারি উদ্যোগে উপজেলায় উপজেলায় ডে কেয়ার সেন্টার ও কর্মজীবি নারী হোস্টেল নির্মাণের জন্য বাজেট বরাদ্দ করলে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে এবং অনেক নারী কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হতে পারে| কিন্তু সে বিষয়ে বাজেটে বরাদ্দ থাকে না| স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, হাসপাতালে মাতৃসদন নির্মাণে খুব বেশি বাজেট বরাদ্দ লাগে না| এবার হামের টিকার অভাবে ৩০০ এর বেশি শিশু ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছে। টিকার সংকটের সাথে সাথে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গিয়েছে আমাদের শিশুদের চিকিৎসার চিত্র। মা ও শিশু হাসপাতালগুলো কার্যকর থাকলে ভয়াবহতা অনেকটাই কমে আসত। এ বিষয়ে কোন আলোচনা বা উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয় নাই।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম মনে করে নারীর সম অধিকার নিশ্চিত করা এবং পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে সমাজে ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে যেসকল প্রতিবন্ধকতা তা দূর করার কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের এবং সেসকল ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখতে হবে| পরিবারে, সমাজে ও রাষ্ট্রে নারীর শ্রমের অবদানের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে|













