সকল হত্যা ও মব সন্ত্রাস এবং সংবাদপত্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিচারের দাবিতে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠি
ওসমান হাদি, দীপু চন্দ্র দাস, আয়েশাসহ সকল হত্যা, মব সন্ত্রাস এবং প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচী কার্যালয়ে হামলা লুটপাট, ভাংচুর অগ্নিসংযোগসহ ধ্বংসযজ্ঞের বিচারের দাবিতে আজ ২৬শে ডিসেম্বর ২০২৫ বিকাল চারটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে কেন্দ্রীয় গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট । সমাবেশ থেকে গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টি ও নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত প্রতিহত করা এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অপতৎপরতা রোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য সকল দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাংলাদেশ জাসদের স্হায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা। সমাবেশে উপস্হিত ছিলেন বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, সমাজতান্ত্রিক পার্টির আব্দুল আলী। সমাবেশে বক্তারা বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার জন্য ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সরকার তৎক্ষনাৎ রেড এলার্ট জারি না করে হত্যাকারীদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে। এরপর সরকারের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে একদল উগ্রবাদী প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট, উদীচী কার্যালয় ধ্বংস, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করেছে বাধাহীনভাবে। একই সময়ে আমরা দেখলাম কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ভালুকায় গার্মেন্টস শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস নামে এক যুবককে প্রথমে গণপিটুনি তারপর জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হলো। পুলিশ পুরোটা সময় নিশ্চুপ দর্শকের ভূমিকা পালন করলো। লক্ষ্মীপুরে ঘরে আগুন দিয়ে শিশু আয়েশাকে হত্যা করা হলো। সারাদেশে প্রায় প্রতিদিন হত্যা, খুন হামলার ঘটনা ঘটছে। সারাদেশে এই অরাজকতার দায় সরকারকেই নিতে হবে। সরকার শুরু থেকে আইন মানুষের হাতে তুলে নেয়া, মব সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিয়ে আসছে। এর ফলে জনগণ আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এমন পরিস্থিতিতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের মত অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করার জন্য এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বক্তারা এসব কর্মকাণ্ডের সাথে উগ্র ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠীর যুক্ত থাকার সম্ভাবনার কথা বলেন। সরকারি ইন্ধন ছাড়া এসব খুন-সন্ত্রাস-হামলা করে পার পেয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
বক্তারা অবিলম্বে গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে বাধা সৃষ্টি ও নির্বাচন বানচালের সকল চক্রান্ত প্রতিহত করার দাবি জানান। পাশাপাশি ওসমান হাদি, দীপু চন্দ্র দাস, আয়েশাসহ সকল রাজনৈতিক হত্যার বিচার, খুন, মবসন্ত্রাস, সংবাদপত্র এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপর হামলার বিচার ও উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অপতৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সাথে মব সন্ত্রাস, হত্যা খুন ও মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সকল বাম, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও গোষ্ঠিকে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বার্তা প্রেরক
রাজেকুজ্জামান রতন
সহসাধারণ সম্পাদক, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি।













