আব্দুল হালিম, ব্যুরো অফিস, রংপুরঃ
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার নাগেরহাট এলাকায় যমুনেশ্বরী নদী এখন প্রভাবশালী বালুখেকোদের দখলে। প্রশাসনের চোখের সামনেই বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলেও আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন না প্রশাসন। অবশেষে যমুনেশ্বরী নদী ও নাগেরহাট সেতু রক্ষার দাবিতে মানববন্ধনে নেমেছেন স্থানীয় জনগণ।
গত১১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ রোববার বিকেলে নাগেরহাট সেতুর ওপর আয়োজিত এই মানববন্ধনে নারী-পুরুষ, কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৩ শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ব্যানার হাতে তাঁরা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, ড্রেজার মেশিন অপসারণ এবং জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যমুনেশ্বরী নদীর ওপর প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নাগেরহাট সেতুর ঠিক নিচেই বসানো হয়েছে একাধিক শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন। এসব মেশিন দিয়ে দিন-রাত নদীর বুক চিরে বালু তুলে নেওয়া হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সেতুর পিলার দুর্বল হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশ অতিরিক্তভাবে গভীর হয়ে গেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে নদীর স্রোত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সেতু ও আশপাশের বসতবাড়ির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বক্তারা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে উত্তর মাধাই খামার,দক্ষিণ মাদাই খামার, দালালপাড়া, কচুয়া, সোনারপাড়া এবং নাগেরহাট ব্রিজসংলগ্ন বেশ কয়েকটি গ্রাম সরাসরি ঝুঁকিতে রয়েছে। নদীভাঙন শুরু হলে এসব এলাকার ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট বিলীন হয়ে যেতে পারে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
নদীর পাড়ে এখনই ফাটল দেখা দিয়েছে। এভাবে বালু তুলতে থাকলে বর্ষা এলে পুরো এলাকা নদীগর্ভে চলে যাবে।” মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা গুরুতর অভিযোগ করে বলেন, প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতা এই অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের দাবি, থানা-পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করেই বছরের পর বছর ধরে ড্রেজার চালিয়ে কোটি কোটি টাকার বালু বিক্রি করা হচ্ছে। বক্তারা বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ করায় বালু খেখোদের হুমকি অব্যাহত রয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা প্রশ্ন তোলেন একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর নিচে প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন চললেও প্রশাসন কীভাবে বিষয়টি জানে না? তাঁদের মতে, প্রশাসনের নীরবতা অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের আরও বেপরোয়া করে তুলেছে। মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে যমুনেশ্বরী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ। সব ড্রেজার মেশিন অপসারণ। বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা। নদী ও নাগেরহাট সেতু রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে এলাকাবাসী বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।এ বিষয়ে জানতে চাইলে বদরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল আমিন সরকার বলেন,পুলিশের টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। বিষয়টি আইনগতভাবে খতিয়ে দেখা হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।” এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এখনই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না করা হলে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নাগেরহাট সেতু এবং যমুনেশ্বরী নদীপাড়ের জনপদ ভয়াবহ পরিবেশগত ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।













