রাজেকুজ্জামান রতন সহকারী সাধারণ সম্পাদক বাসদঃ
বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে আজ ২৬শে নভেম্বর ২০২৫ সুষ্ঠ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য এবং সকলের জন্য নির্বাচনে সমান সুযোগ সুনিশ্চিত করার দাবিতে সারাদেশে জেলায় জেলায় নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি পেশ করা হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে ঢাকায় আগারগাওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অফিসের সামনে বিক্ষোভ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়। বাম জোটের নেতা কর্মীরা আগারগাও মেট্রো স্টেশনে জমায়েত হয়ে মিছিল নিয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে যান। সেখানে পুলিশ তাদের বাঁধা দিলে নির্বাচন কমিশন ভবনের গেটে বাম জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফি রতন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজনৈতিক দল ও স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলেচনা না করে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারীভাবে আরপিও সংশোধন করে নির্বাচনে জামানতের টাকা ও নির্বাচনী ব্যয়সীমা বৃদ্ধি, সব আসনে না ভোটের বিধান না রেখে শুধুমাত্র একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে না ভোট রাখাসহ বিভিন্ন অগণতান্ত্রিক ধারা আরপিওতে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। কালোটাকা, পেশিশক্তি, সাম্প্রদায়িকতা, আঞ্চলিকতা ও প্রশাসনিক কারসাজিমুক্ত নির্বাচনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে করা হলেও নির্বাচন কমিশন সেগুলো নিয়ন্ত্রণে কোন সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং নির্বাচনে জামানতের টাকা বৃদ্ধি করে এবং নির্বাচনের ব্যয়সীমা বাড়িয়ে সৎ সাধারণ মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পথে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। আর এর ফলে নির্বাচন কালো টাকার মালিক ও লুটেরা ধনীদের দৌরাত্ম্যই বেড়ে যাবে। আবার সকল আসনে ‘না’ ভোটের বিধান না রেখে শুধুমাত্র একক প্রার্থী থাকলে ‘না’ ভোট থাকবে এধরনের অগণতান্ত্রিক বিধান যুক্ত করে চোর বা ডাকাতের মধ্যে মন্দের ভাল বেছে নিতে বলা হচ্ছে। এতে ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আইসিটি মামলায় কেউ অভিযুক্ত হলেই নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবে না, এগুলো কোন সভ্য দেশের নিয়ম হতে পারে না। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, মানুষ একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চেয়েছিল অথচ আমাদের সরকারের উপদেষ্টারা পদত্যাগ করেই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন। এগুলো কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সরকারের সুবিধা ভোগকারী বা উপদেষ্টারা কেউ পদত্যাগের পর কমপক্ষে ৩ বছর অতিবাহিত না হলে নির্বাচন করতে পারবে না সেই বিধান যুক্ত করা দরকার।
বামজোট নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সম্প্রতি জামাত নেতা শাহজাহান চৌধুরী জামাতের সভায় প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশকে তাদের কথায় চলতে হবে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তারপরেও কেন তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না তা দেখে আমরা বিস্মিত। গণহত্যার আসামী, যুদ্ধাপরাধী ও ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারকারীরা যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সে বিষয়েও দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে বামজোটের সমন্বয়ক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বরাবর লেখা ১৪ দফা দাবিনামা সম্বলিত স্মারকলিপি কমিশনের অতিরিক্ত সচিবের কাছে হস্তান্তর করেন।













