নির্বাচন, গণভোট নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টামন্ডলীর বক্তব্য-বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলেছে; পোস্টাল ব্যালট ও প্রবাসী ভোটের জালিয়াতির হোতাদের শাস্তি চাই-গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট
মাহ্তাব ইসলামঃ
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা, বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্কাফী রতন, বাংলাদেশ জাসদ-এর সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী আজ ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ সংবাদপত্রে প্রকাশার্থে দেওয়া এক বিবৃতিতে গণভোট, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টামন্ডলী তথা সরকারের কর্তাব্যক্তিদের বিভিন্ন বক্তব্য, বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এর মাধ্যমে সরকার নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলেছে। যা দেশ ও জাতির জন্য মারাত্মক সংকট ডেকে আনতে পারে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা গতকাল ‘দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চ শিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পথ নির্দেশনা’ শীর্ষক আঞ্চলিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘তরুণরা একটি দল করেছে, সে দলের কয়েকজন নির্বাচিতও হবেন এবং তাদের দুই একজন মন্ত্রীও হবেন’। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনের আগাম ফলাফল ঘোষণা করেছেন। এহেন পক্ষপাতমূলক বক্তব্য প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষতাকে মাটাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং বাস্তবে যা সরকারের নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলার সামিল। তা ছাড়া তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে আগামী জাতীয় সংসদের নির্বাচন যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবেনা তারই প্রতিফলন ঘটেছে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার পক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টামন্ডলী এবং ডিসি, এসপিসহ সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য প্রদানও জনমতকে প্রভাবিত করা ও সরকারের নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ন করছে যা নৈতিক ও আইনীভাবেও সঠিক নয়। এর ফলে ভবিষ্যতে গণভোটই আইনী চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে পারে।
নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, ইতিপূর্বে দেশে যে তিনটি গণভোট হয়েছে সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে গণভোটে অংশগ্রহণের জন্য কেবলমাত্র জনগণকে আহ্বান জানানো হয়েছে। হ্যাঁ বা না ভোট কোনটার পক্ষেই সরকারের প্রচারণা ছিল না। কিন্তু এবারে গণভোটে সরকারের পক্ষ থেকে ‘হ্যাঁ ভোট না দিলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে’ এহেন প্রচার সরকারের নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ন করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গণভোট সাধারণত একটি প্রশ্নকে কেন্দ্র করে হয়। এবারে প্রায় ৪৮টি বিষয়কে ৪টি প্রশ্নের মধ্যে এনে হ্যাঁ বা না ভোট দিতে বলা হয়েছে। ৪টি প্রশ্নের মধ্যে কী কী বিষয় আছে তা ভোটার জনগণ জানেই না। ফলে কেন হা বলবে আবার কেনই বা না বলবে তা বিচার বিবেচনা করার কোন উপায় জনগণের নাই। এই জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণকে বাস্তবে একটা বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলা হয়েছে। তাছাড়া ঐ সব বিষয়ের অনেকগুলোতে অনেক দলের ভিন্নমত দেওয়া আছে। ফলে কীভাবে ভিন্নমতসহ হ্যাঁ বা না বলবে? এজন্যই আমরা শুরুতে বলেছিলাম, যে সব বিষয়ে সব দল সর্বসস্মতভাবে একমত হয়েছে সেগুলো নিয়ে জুলাই সনদ করা হোক এবং আগামী নির্বাচিত সংসদে তা সংশোধনী এনে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। তখন প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরের পূর্বে জনগণের সম্মতির জন্য গণভোটের আয়োজন করা যেতে পারতো। তা না করে সরকারের এবং কতিপয় দলের ইছা ও মতামতকে সকল দল ও জনগণের উপর চাপিয়ে দেওয়া হছে। সে জন্য এই গণভোটকে আমরা অপ্রয়োজনীয় বলে আসছি প্রথম থেকেই।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সবকিছু নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা। সরকার শুধু রুটিন কাজ করবে এবং নির্বাচন কমিশনকে যাবতীয় লজিস্টিক সাপোর্ট দিবে, কমিশন যা চাইবে। গণভোটের প্রচার করতে হলে নির্বাচন কমিশন করবে, সরকার নয়। ফলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-র পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে সরকার আচরণবিধি লংঘন করছে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন গণ মাধ্যমে প্রচারিত ওমান ও বাহরাইনে জামায়াত নেতার বাসায় পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও প্রচারের সংবাদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও পোস্টাল ব্যালটের দাবি আমাদের দীর্ঘ দিনের। কিন্তু পোস্টাল ব্যালট নিয়ে যে জালিয়াতির চিত্র প্রকাশ পাচ্ছে এতে করে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা তিরোহিত হচ্ছে। এটা আগামী নির্বাচন কেমন হবে তারও একটি নমুনা। বিৃবতিতে বলা হয়, যদি প্রকৃতই এ ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে এর দায় নির্বাচন কমিশন কোনমতেই এড়াতে পারে না।
নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, নির্বাচন কমিশন জাতীয় নির্বাচনের আচরণ বিধিতে ব্যানার, বিলবোর্ডে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক প্যানাফ্লেক্স -র্যাক্সিন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে অথচ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার করে যে বিলবোর্ড টাঙ্গানো হয়েছে তা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক প্যানালেক্স ও র্যাক্সিনের। আমরা মনে করি সরকার প্রশাসনের এই প্রচার নির্বাচনের আচরণ বিধির চরম লংঘন।
বিবৃতিতে অবিলম্বে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ঐসব সরকারি বিলবোর্ড অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।













