সংবাদ সম্মেলনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে।গত ২৩শে জানুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার সকাল ১১:০০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহারটি পাঠ করেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা, বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য, রাকসুর সাবেক ভিপি রাগিব আহসান মুন্না, বাংলদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা.মুশতাক হোসেন, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নেতা রুবেল সিকদার,জাতীয় গণফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুন নুজহাত মনিষা, সোনার বাংলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হারুন অর রশীদ।
সংবাদ সম্মেললনে আরও উপস্থিত ছিলেন,সিপিবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, সাবেক সাধারণ রুহিন হোসেন প্রিন্স, প্রেসিডিয়াম সদস্য পরেশ কর, বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের নজরুল ইসলাম, ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. হারুন অর রশীদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহীদু ইসলাম সবুজ। এছাড়াও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট মনোনীত ঢাকার বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা উপস্হিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকার এখনো সকলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে।অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেও দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নাই।ইতিমধ্যে বিভিন্ন বড় দলের সবল প্রার্থীরা প্রকাশ্যে আচরণবিধি লংঘন করে চলছে। স্বাধীনতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক দল নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার করে বেহেস্তের টিকিট বিক্রি করছে , যা আচরণবিধির চরম লংঘন।
তিনি বলেন, খোদ প্রধান উপদেষ্টা যখন তার বক্তব্যে “একটি দলের কয়েকজন পাশ করবে এবং তাদের দুই একজন মন্ত্রীও হবেন” এমন কথা বলেন তথা আগাম ভোটের ফলাফল বলে দেন এবং তাঁর প্রেস সচিব যখন বলেন, “এবার ভোট গননায় সময় বেশি লাগবে” তখন সুষ্ঠু ভোট নিয়ে জনমনে সন্দেহ অবিশ্বাস জন্ম নিতে বাধ্য।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার গণভোটে হা প্রচার করতে যত মনযোগি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরী তথা মানুষের ভীতি দূর করতে কার্যকর ব্যবস্হা গ্রহণে ততোটাই অমনযোগি।
নেতৃবৃন্দ আইন শৃংখলা পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মানুষের ভয় দূর করা, আচরণবিধি লংঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা গ্রহণসহ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরী করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সাথে আসন্ন নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে “জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা” এবং গণআন্দোলনের শক্তিকে বিকশিত করার জন্য দেশের ভোটার জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার
ব্রিটিশ ও পাকিস্তানী উপনিবেশিক শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে এ দেশের শ্রমিক-কৃষক, মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত জনগণের রক্তে-ঘামে রচিত দীর্ঘদিনের সংগ্রাম এর পরিণতিতে ১৯৭১ সালে নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র। স্বাধীন দেশে সংগ্রামী জনগণ যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, গত ৫৪ বছরেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে যে স্বপ্ন-প্রত্যাশা-সম্ভাবনা জন্ম নিয়েছিল, ক্ষমতাসীন শাসকেরা শুরু থেকেই তার বিপরীতে দেশ পরিচালনা করায় জনমনে সৃষ্টি হয়েছিল ক্ষোভ ও হতাশা। ক্রমান্বয়ে এই ক্ষোভ গণবিক্ষোভে রূপ নেয়।
মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার পরেও জনগণকে সংগ্রাম করে যেতে হয়েছে। সাড়ে ৩ বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালে দেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করা হয়। সামরিক শাসনের গায়ে গণতন্ত্রের আলখেল্লা পরালেও সত্যিকার গণতন্ত্রের দেখা জনগণ পায়নি। ১৯৮২ সালে দেশ পুনরায় সামরিক স্বৈরশাসনের কবলে পড়ে।
দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে চেপে বসা সামরিক স্বৈরশাসনের অবসানের জন্য দীর্ঘ আন্দোলনের পথ পরিক্রমা শেষে ’৯০ সালে গণ-অভ্যুত্থানে জনগণ আবার বিজয়ী হয়েছিল। কিন্তু সে বিজয়ও জনগণের হাতে থাকেনি। সর্বশেষ, চব্বিশ সালে আবারও তীব্র ও রক্তঝরা ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণ-অভ্যুত্থান’ একটানা দেড় দশক ধরে চেপে বসা স্বৈরাচারী-ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে জনগণ বিপুল পরিমাণে ত্যাগ স্বীকার করেছে। বিগত ৫৪ বছরে লুটেরা ধনিকশ্রেণির শাসন শোষণ বিশেষ করে গত ১৫ বছরের আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হওয়া, ঘুষ-দুর্নীতি, লুটপাট, মূল্যবৃদ্ধি, গুম-খুন ইত্যাদির কারণে দেশের মানুষ ছিল অতিষ্ঠ। লুটপাট, দুর্নীতি, বৈষম্য সীমা ছাড়িয়েছিল। এমনকি বিগত ৩টি জালিয়াতির নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকারকেও হরণ করা হয়েছিল। এসবের বিরুদ্ধে মানুষের মনে যে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠে তারই ফলাফল এই গণঅভ্যুত্থান। এই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৫ হাজারেরও বেশি। মানুষ শোষণ, বৈষম্য ও দুঃশাসন থেকে মুক্তির পথ খুঁজেছিল। কিন্তু মুক্তি আসেনি।
অভ্যুত্থানের পরে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। জুলাই হত্যাকান্ডের সাথে যুক্তদের বিচার দৃশ্যমান হয় নি। মব সন্ত্রাসে গোটা দেশ নাকাল। মাজার-খানকাহ্, আখড়া-মন্দিরসহ ভিন্ন মত ও পথের মানুষের ধর্ম ও সংস্কৃতির উপর আক্রমণ, বাউলদের চুল কেটে দেওয়া এবং কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে দেওয়া, কথিত ধর্ম অবমাননার নামে হত্যা করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়াসহ বীভৎস হত্যাকা- চলছে। প্রথম আলো, ডেইলিস্টারসহ গণমাধ্যম এবং ছায়ানট, উদীচীসহ সাংস্কৃতিক সংগঠনের অফিসে হামলা-অগ্নিসংযোগ, নারীদের উপর শারীরিক আক্রমণ ও অনলাইন ব্যাশিং, সাইবার বুলিং হাতেনাতে প্রমাণ করছে যে-ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হলেও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান অথবা তার চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি।
শুধু সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংকটই নয়, গণ-অভ্যুত্থানের পরে মানুষের ন্যূনতম মৌলিক চাহিদাও নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। গরীব- নিম্নবিত্ত -মধ্যবিত্ত মানুষ তাদের অসহ্য জীবনযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পায়নি। মানুষের দুঃখ কষ্ট লাঘবের কোন চেষ্টাও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার করেনি।
দেশের মোট সম্পদের ৫৮ শতাংশের মালিকানা সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের হাতে। একদিকে দরিদ্র বৃদ্ধি, অন্যদিকে কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধি, বৈষম্যবৃদ্ধির এক চূড়ান্ত নিদর্শন, যা স্বাধীনতার পর থেকেই চলমান এবং গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়েও তা অব্যাহত রয়েছে। অথচ গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্যহীনতা, সমতা, সাম্য-এই স্লোগানগুলো উঠেছিল। গণতন্ত্রের পক্ষে, দুর্নীতি-লুটপাটের বিরুদ্ধে মানুষ আওয়াজ তুলেছিল। কিন্তু পরিবর্তন ঘটেনি। কারণ, যে অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর ফ্যাসিবাদ গড়ে ওঠে তার আমূল পরিবর্তন তথা পুঁজিবাদী শোষণমূলক আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার বদল ছাড়া শোষণ বৈষম্যের বিলোপ তথা ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধ করা সম্ভব নয়। ফলে মানুষ আবারও মুক্তির রাস্তা খুঁজছে।
দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে আমাদের দেশ পর্যায়ক্রমে নৌকা, ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, লাঙ্গল ইত্যাদি মার্কার সরকার, কিংবা সামরিক সরকারের অপশাসন ও দুঃশাসনে বন্দি থেকেছে। লুটেরা-জালিম, দখলবাজ-দুর্নীতিবাজ, সাম্প্রদায়িক ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তি দেশের রাজনীতি-অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক হয়ে থেকেছে। এসব শক্তির শাসনে দেশ আজ গভীর সংকট ও ধ্বংসের মুখোমুখি। ৫৪ বছরে ক্ষমতাসীন সকল সরকারই শোষণমূলক পুঁজিবাদী অর্থনীতির ধারক-বাহক। এই অর্থনীতিই শাসকদেরকে ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
দেশের আপামর শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, জনতাই ছিল ’২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানসহ অতীতের সকল ইতিহাস সৃষ্টিকারী সংগ্রামের প্রধান শক্তি, বিজয়ের মূল নায়ক ও প্রধান কারিগর। জগণের রক্ত ঘামে এসব যুগান্তকারী বিজয় অর্জিত হলেও বিজয়ের ফসলের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে জনগণকে বার বার বঞ্চিত করা হয়েছে। লুটেরা শোষকেরা তাদের শোষণ ব্যবস্থাকে বহাল রাখার স্বার্থে বার বার জনগণের ওপর স্বৈরাচারী, ফ্যাসিস্ট শাসন চাপিয়ে দিয়েছে। লুটপাটের ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব-বিবাদের পরিণতিতে সমাজ-রাজনীতি, অর্থনীতি আজ বিপজ্জনক মাত্রায় নৈরাজ্য-অনিশ্চয়তা ও সংকটের আবর্তে পতিত হয়েছে। বারবার সরকার বদল হয়েছে, কিন্তু গরিব নি¤œবিত্ত-মধ্যবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের অসহনীয় জীবনযন্ত্রণা কমে নাই, বরং তা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।
যে ব্যবস্থায় এবং যে চরিত্রের সরকারসমূহের দ্বারা এযাবৎকাল দেশ পরিচালিত হয়েছে-তার ব্যর্থতা, চূড়ান্ত দেওলিয়াপনা ও অপরাধমূলক কার্যক্রম চলতি রাজনীতি সম্পর্কে মানুষের মনে অনীহা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। প্রচলিত চলতি-হাওয়ার রাজনীতির পংকিলতা থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজন একটি প্রকৃত ‘গণমুখী গণতান্ত্রিক প্রগতিবাদী ব্যবস্থার সরকার’ প্রতিষ্ঠা করা।
এযাবৎকাল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত শাসক শোষকগোষ্ঠী ও তাদের অনুসৃত ‘শোষণ-বৈষম্য’ লালনকারী ব্যবস্থায় দেশকে আর চলতে দেওয়া যায় না। ধর্মান্ধতা, জাতপাত, সাম্প্রদায়িকতা ধুরন্ধর রাজনৈতিক শক্তির ক্ষমতালাভের হাতিয়ার হয়ে জনসাধরণের ঐক্যকে বিভক্ত করতে পারছে। সাম্প্রদায়িকতাতে রুখতে গেলে গরীব মেহনতি মানুষের উপর নেমে আসা একের পর এক অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইকে সেক্যুলার গণতান্ত্রিক আদর্শিক চেতনার ভিত্তিতে সেই সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী লড়াইয়ের সাথে যুক্ত করতে হবে। একই সাথে জনগণকে সংগঠিত করে এই অর্থনৈতিক আক্রমণের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে দীর্ঘ ৮ মাসের আলোচনা, তর্ক-বিতর্কের মর্মবস্তু জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কর্তৃক প্রণিত জুলাই সনদে প্রতিফলিত হয় নি। দলসমূহের দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’-গুলোকে যুক্ত করে সনদ রচনা করা হয়েছে। সনদের পটভূমিতে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। সনদের অঙ্গীকারনামা অংশে এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু যে সকল দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে তারা কীভাবে সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করবে? অঙ্গীকারনামায় বলা হয়েছে-‘জুলাই সনদ নিয়ে কেউ আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবে না’। এটি নাগরিকের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। আমরা সংবিধানে বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি বহাল রেখে কমিশন প্রস্তাবিত মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা পত্রের অঙ্গীকারসমূহ মূলনীতি হিসেবে যুক্ত করার কথা বলেছিলাম। কমিশন সেটা আমলে নেয়নি। এসকল কারণে আমরা ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে, অনেকগুলো সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে একমত হয়েও-তাতে স্বাক্ষর করতে পারিনি। সব দলের সর্বসম্মত প্রস্তাবগুলো নিয়ে সনদ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নিলে কেউই তাতে আপত্তি করতো না। কিন্তু সরকার ও ঐকমত্য কমিশন তা না করে জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের বিষয়ে আমরা প্রথম থেকে গণভোটকে অপ্রয়োজনীয় বলে এসেছি। কারণ সংবিধান সংশোধন একমাত্র জাতীয় সংসদেই হতে পারে এবং সংশোধনের বিধান সংবিধানেই রয়েছে। সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন করতে হলে সংসদে সংশোধনী বিল পাশ করে পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরের আগে গণসম্মতির জন্য গণভোট নেওয়া যেতো। এখন রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির মাধ্যমে যে গণভোট আয়োজন করেছে তা অসাংবিধানিক। কারণ ৮ আগস্ট ২০২৪ বিদ্যমান সংবিধানের অধীনেই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নিয়েছে এবং সংবিধান এখনও বহাল রয়েছে।
তাছাড়া জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যেভাবে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছে এবং গণভোটে সাংবিধানিক সংস্কাগুলোকে চারটি প্রশ্নের একটি প্যাকেজের মধ্যে এনে পুরো প্যাকেজের উপরেই ‘হ্যাঁ/না’ ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে-তা পুরোপুরি অগণতান্ত্রিক। কেউ চারটি প্রশ্নে উল্লেখিত পয়েন্টের কয়েকটি সুপারিশের সাথে একমত বা দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। অধিকাংশগুলোর সাথে একমত কিন্তু কোন এক বা একাধিক প্রস্তাবের সাথে দ্বিমত হলেও যে কোন মানুষের সেই মত প্রকাশের অধিকার আছে। কিন্তু এই গণভোটে সেই সুযোগ রাখা হয়নি। এতে মানুষের মতামতের যথার্থ প্রতিফলন ঘটবে না। জুলাই সনদের যে সকল বিষয়ে আমরা একমত পোষণ করেছি, আমরা জয়ী হলে সেগুলো বাস্তবায়ন করবো এবং যেগুলোতে ভিন্নমত রয়েছে তা কেউ জোর করে বাস্তবায়ন করতে চাইলে জনগণকে সাথে নিয়ে তা প্রতিরোধে সংসদের ভিতরে বাইরে আন্দোলন গড়ে তুলবো।
বর্তমান পরিস্থিতির একট প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো দেশের জন্য আজ ‘জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি’ গড়ে তোলা ছাড়া পথ নাই। এমনকি ‘প্রচলিত লুটেরা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ও শক্তির নতুন সংস্করণ’ দিয়েও কার্যকরভাবে সংকট উত্তোরণ সম্ভব হবে না। তাই দেশ, গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ রক্ষায় বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তি ও ব্যক্তি মিলে জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ এর পক্ষ থেকে দেশ গঠনের নি¤েœাক্ত প্রস্তাবনা তুলে ধরছি। লুটেরা দুর্বৃত্ত কোটিপতি আর সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ক্লাব নয়, সংসদ হোক শোষিত-বঞ্চিত, নিপীড়িত জনগণের অধিকার আদায়ের অন্যতম হাতিয়ার এই স্লোগানকে ধারণ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট অংশগ্রহণ করছে। যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করে গণ-আন্দোলনের শক্তিকে বিকশিত করার জন আমরা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের অঙ্গীকার
১. রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন
মতপ্রকাশ, সংগঠন, সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
বিশেষ ক্ষমতা আইন, সাইবার সিকিউরিটি অধ্যাদেশসহ মানবাধিকারবিরোধী নিবর্তনমূলক আইন বাতিল
সংবিধানের গণতন্ত্রবিরোধী ধারা ও আইন বাতিল
অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও কর্মসংস্থানকে আইনী সুরক্ষাসহ মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি
পাহাড় ও সমতলের আদিবাসী ও অন্যান্য জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান; তাদের ভূমির অধিকার ও জানমালের নিশ্চয়তা
সংখ্যালঘু, শ্রমজীবী ও দলিত জনগোষ্ঠীর বিশেষ সুরক্ষা বিধান
৭০ অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণ বাতিল করা (দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোটের অধিকার)
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা
বিচার বিভাগ নির্বাহী প্রভাবমুক্ত সম্পূর্ণ স্বাধীন করা
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গণতান্ত্রিক সংস্কার
নিরাপত্তা বাহিনীর রাজনৈতিক ও দলীয় ব্যবহার বন্ধ
দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান করা
দুদকের ওপর নির্বাহী ও দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার
২. গণতান্ত্রিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমন
অতীতের আলোচিত ও অনিষ্পন্ন বিচারসহ জুলাই হত্যাকা-ের বিচার সম্পন্ন করা
গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যুর তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি প্রদান
নির্বিচার গ্রেপ্তার ও হয়রানিমূলক মামলা বন্ধ করা
মিথ্যা হয়রনীমূলক মামলায় গ্রেপ্তারকৃত রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার উদ্যোগ
বিচারপ্রক্রিয়ার অপব্যবহার বন্ধে কাঠামোগত সংস্কার
দরিদ্র মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় আইনি সহায়তা জোরদার
সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও মবসন্ত্রাস দমন
মাদক, মানবপাচার ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান
কালো টাকা ও অর্থপাচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা
প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত
যুগোপযোগী ও আত্মনির্ভর জাতীয় প্রতিরক্ষানীতি প্রণয়ন
সকল সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীদের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা
প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনীকে জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ করা
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার রাজনৈতিক শাখা বিলুপ্ত করা
৩. স্বশাসিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদে সরাসরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু
স্থানীয় সরকারের ওপর কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহারের উদ্যোগ গ্রহণ
স্থানীয় সরকারের জন্য নিজস্ব বাজেট ও পরিকল্পনার ক্ষমতা নিশ্চিত
স্থানীয় পর্যায়ে বাধ্যতামূলক গণশুনানি ও তথ্য প্রকাশ ব্যবস্থা
সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংরক্ষিত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত
জাতীয় বাজেটের একটি নির্দিষ্ট অংশ স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ব্যয়
শিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্য, কৃষি সম্প্রসারণ ও সামাজিক সেবার বড় অংশ স্থানীয় সরকারের অধীনে ন্যস্ত
নারীদের ন্যূনতম ৫০% প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত
গ্রাম, ওয়ার্ড ও পাড়া পর্যায়ে নাগরিক কমিটি ও সামাজিক নজরদারি কাঠামো
অংশগ্রহণমূলক বাজেট ও সামাজিক নিরীক্ষা স্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা
৪. নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার ও প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্যোগ
নির্বাচনকালীন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণরূপে কমিশনের অধীনে আনার প্রক্রিয়া
ইভিএম বাতিল, ব্যালটভিত্তিক ভোট ব্যবস্থা পুনর্বহাল
‘না ভোট’ চালু ও পুনর্নিবাচনের বিধান
কালো টাকা, পেশিশক্তি, সাম্প্রদায়িকতা ও ভয়ভীতিকে ফৌজদারি অপরাধ ঘোষণা
সমন্বিত ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন আইন প্রণয়ন
জনপ্রতিনিধি প্রত্যাহারের অধিকার (Right to Recall)
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা সংশোধন/ বাতিল
দুর্নীতিবাজ ঋণখেলাপী, কালোটাকার মালিক, গুরুতর অপরাধে দণ্ডিতদের নির্বাচন অযোগ্য করা
প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত
৫. অর্থনৈতিক পুনর্গঠন
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য চালু, পণ্যের মূল্য ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ
বাজার সিন্ডিকেট, মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
সমন্বিত দ্রব্যমূল্য ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন
উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন খরচ ও কর কাঠামো পর্যালোচনা
অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসপণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণ
প্রগতিশীল করব্যবস্থা চালু (উচ্চ আয় ও বড় সম্পদের ওপর বেশি কর)
সাধারণ মানুষের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের চাপ কমানো
কালো টাকা সাদা করার সব পথ বন্ধ
জাতীয় বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, জলবায়ু-পরিবেশ ও সামাজিক খাতে অগ্রাধিকার
উৎপাদনমুখী ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক অর্থনীতি গড়ে তোলা
আঞ্চলিক ও শ্রেণিভিত্তিক বৈষম্য হ্রাস
৬. কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস
কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে রাষ্ট্রীয় নীতির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর পর্যালোচনা ও সংস্কারের উদ্যোগ
জাতীয় কর্মসংস্থান কর্মসূচি চালু
প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজনের কাজ নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া
তরুণদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি
অধিকারভিত্তিক ও সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা
দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারীদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা
স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বৈষম্য ধারাবাহিকভাবে হ্রাস
৭. শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠন
শিক্ষা বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত
পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক পর্যালোচনা; সাম্প্রদায়িকতা ও কুসংস্কার অপসারণ
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা কার্যকর
ঝরে পড়া রোধে উপবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ সহায়তা
আদিবাসী শিশুদের জন্য মাতৃভাষাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা
শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা; মর্যাদাপূর্ণ বেতন ও পেশাগত নিরাপত্তা
শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:২৫ নিশ্চিত করা
সৃজনশীল ও মূল্যায়নভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতি চালু; প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ
সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন
শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণায় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি
৮. জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার গণমুখী সংস্কার
স্বাস্থ্যসেবাকে আইনী সুরক্ষাসহ মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্তকরণ;
দেশের সকল মানুষের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাজেটে অর্থ সংস্থান করা;
স্বাধীন স্বাস্থ্য কমিশন গঠন করে স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়নে দিকনির্দেশনা প্রদানের কর্তৃপক্ষ গঠন করা;
জরুরি স্বাস্থ্যসেবাকে বিশেষায়িত চিকিৎসা হিসেবে গণ্য করে সকল সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জরুরি সেবা জোরদার।
জনস্বাস্থ্যভিত্তিক সর্বজনীন ও রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা বাস্তবায়ন শুরু;
রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য উন্নয়নে জোর দিয়ে গ্রাম ও শহরে তৃণমূলে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জনস্বাস্থ্যের মাঠকর্মী নিয়োগ।
দেশের সকল মানুষের জন্য বিনামূল্যে সকল ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান বাস্তবায়ন
অত্যাবশ্যকীয় ঔষধ জেনেরিক নামে উৎপাদন করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি
ওষুধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসায় অতিরিক্ত বাণিজ্যিক মুনাফা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ
সর্বজনীন ও রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা বাস্তবায়ন
প্রাথমিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা কেন্দ্রীক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিরোধমূলক চিকিৎসায় অগ্রাধিকার
হাওর, চর, পাহাড় ও উপকূলীয় অঞ্চলে বিশেষ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি
উপকূলীয় অঞ্চলসহ সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা
স্যানিটেশন ও রোগপ্রতিরোধমূলক জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম সম্প্রসারণ
ইউনিয়ন পর্যায়ে মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা শক্তিশালী
৯. খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষি সংস্কার
খাদ্যকে অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে ঘোষণা
কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে সরাসরি খাদ্যশস্য ক্রয়
খাদ্য মজুত ও বাজার স্থিতিশীলতায় রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ
কৃষি উপকরণে ভর্তুকি ও সহজ ঋণ; BADC কে পুনরায় পূর্ণাঙ্গভাবে ক্রিয়াশীল করা
সমবায়ভিত্তিক কৃষি উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা
হাওর, চর, উপকূল ও পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য বিশেষ কৃষি কর্মসূচি
সর্বজনীন রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা
খাদ্য সংরক্ষণ, মজুত ও বিতরণ অবকাঠামো শক্তিশালী করা
প্রকৃত জেলে ও কৃষকের সম্পদ ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত
১০. শ্রমিক অধিকার ও ট্রেড ইউনিয়ন স্বাধীনতা
শ্রমিকের কাজ, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপত্তাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি
ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমে সরকার, মালিক ও মাফিয়াদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা
জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা, বাস্তবায়ন ও নিয়মিত হালনাগাদ
কারখানা ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত
অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের নিবন্ধন ও সুরক্ষা
শ্রমিকদের আবাসন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা
নারী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ও মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করা
বন্ধ সকল রাষ্ট্রায়ত্ত কল-কারখানা চালু করা
১১. নারী অধিকার ও লিঙ্গসমতা
সম্পত্তির উত্তরাধিকারসহ সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করা
ইউনিফরম সিভিল কোর্ড চালু
নারী নির্যাতন, সহিংসতা, যৌন হয়রানি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ
কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা
কর্মক্ষেত্রে সমান কাজের জন্য সমান মজুরি নিশ্চিত; ডে কেয়ার স্টোর চালু
নারী শ্রমিক ও কর্মজীবী নারীর নিরাপত্তা ও মাতৃত্বকালীন অধিকার বাস্তবায়ন
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে নারীর বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি
নারীদের জন্য জেলায় জেলায় কর্মজীবী হোস্টেল নির্মাণ
জাতীয় ও স্থানীয় সরকারসহ সব সিদ্ধান্তগ্রহণ পর্যায়ে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে নারীপ্রধান পরিবার ও একক নারীর অগ্রাধিকার
১২. যুবশক্তির বিকাশ
যুবদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার ঘোষণা
বেকার যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচির সমন্বয় শুরু
কারিগরি, প্রযুক্তিগত ও পেশাগত প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ
উদ্যোক্তা যুবদের জন্য সহজ ঋণ ও সহায়তা ব্যবস্থা
খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকা-ে যুব অংশগ্রহণ বৃদ্ধি
যুবদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি
রাষ্ট্রীয় নীতি ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় যুবদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত
মাদকের ছোবল থেকে যুবকদের রক্ষা করা, মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্হা গ্রহণ
১৩. পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামো
গণপরিবহনে অতিভাড়া, চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর ব্যবস্থা
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে লাইসেন্স ও ফিটনেস ব্যবস্থার সংস্কার
নৌপথ, রেলপথ ও সড়ক পথকে পর্যায়ক্রমিক গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিত জাতীয় পরিবহন পরিকল্পনার আওতায় আনা
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
রেলকে প্রধান গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার কেন্দ্রে পুনঃপ্রতিষ্ঠা
অবহেলিত ও বন্ধ রেললাইন পুনরুদ্ধার
গ্রাম ও প্রান্তিক অঞ্চলের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন
১৪. পরিবেশ, জলবায়ু ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষা
পরিবেশবিনাশী ও জনস্বার্থবিরোধী প্রকল্প পর্যালোচনা ও প্রয়োজনে বাতিল করা
নদী, বন, পাহাড় ও জলাভূমি দখল ও দোষণমুক্ত করা
হাওর, চর, পাহাড় ও উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বিশেষ জলবায়ু অভিযোজন কর্মসূচি
শিল্পদূষণ ও পরিবেশ অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ
পানিসম্পদ সংরক্ষণ কর্মপরিকল্পনা
বন উজাড় রোধ ও সামাজিক বনায়ন সম্প্রসারণ
তিস্তাসহ অভিন্ন আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে অগ্রাধিকার প্রদান
জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সাগর ও স্হলভাগের তেল-গ্যাস আহরণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে অগ্রাধিকার প্রদান
১৫. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও গবেষণার গণমুখী সংস্কার
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণাকে জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকার খাত ঘোষণা
গবেষণা খাতে অবহেলা ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ কমানোর উদ্যোগ
শিক্ষা ও শিল্পের সঙ্গে গবেষণার কার্যকর সংযোগ
তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে কর্পোরেট মুনাফা ও নজরদারিমুখী প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ
রাষ্ট্রীয় গবেষণা সহায়তা ও অনুদান ব্যবস্থা সম্প্রসারণ
বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ বৃদ্ধি
বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনকে গণমুখী ও কর্মসংস্থানভিত্তিক করা
১৬. গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা
সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের ওপর সব অঘোষিত ও ঘোষিত নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার
সাংবাদিক হয়রানি, মামলা ও গ্রেপ্তার বন্ধ
মতপ্রকাশের কারণে আটক সব ব্যক্তির মুক্তি, মৌলবাদী চিন্তার বদ্ধতা থেকে বিজ্ঞান ও যুক্তি ভাবনাকে মুক্ত রাখা
গণমাধ্যমবিরোধী ও মতপ্রকাশ-দমনকারী আইন বাতিল/সংশোধন
সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টনে বৈষম্য বন্ধ
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা
স্বাধীন, বহুমাত্রিক ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম পরিবেশ নিশ্চিত
সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষা
১৭. সাহিত্য, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক চেতনা
মতপ্রকাশ ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের ওপর সব বাধা প্রত্যাহার
শিল্পী, লেখক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের হয়রানি ও সেন্সরশিপ বন্ধ
সাহিত্য, নাটক, সংগীত, চলচ্চিত্র ও লোকজ সংস্কৃতিতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ
গণতান্ত্রিক, মানবিক ও প্রগতিশীল মূল্যবোধ বিকাশে সাংস্কৃতিক নীতি প্রণয়ন
ইতিহাস বিকৃতি ও সাম্প্রদায়িক অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সুস্থ্য ও প্রগতিমুখী সাংস্কৃতিক আন্দোলন জোরদার
১৮. পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সংহতি
স্বাধীন, সার্বভৌমত্বভিত্তিক ও জনগণের স্বার্থনির্ভর পররাষ্ট্রনীতির ঘোষণা
সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতাভিত্তিক সম্পর্ক জোরদার
উন্নয়নশীল ও তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংহতি বৃদ্ধি
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা
বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করা।













