মাহ্তাব ইসলামঃ
গত ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাজধানীর উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরে মোহনা নামের এক শিশু গৃহকর্মীকে পৈশাচিক নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী বিথীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এরকম একটি লোমহর্ষক, অমানবিক ও শ্রম আইন বহির্ভূত ঘটনায় সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসু ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দিলরুবা নূরী এক যৌথ বিবৃতিতে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠ ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার দাবি করেছেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, গৃহ কর্মীর বয়স মাত্র ১১ বছর, যা শ্রম আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তার উপর নিয়োগকর্তা যে পাশবিক, শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে তা মানবাধিকার পরিপন্থী। কোন মানবিকবোধ সম্পন্ন মানুষের পক্ষে শিশু গৃহকর্মীর উপর এরকম পৈচাশিক নির্যাতন করা সম্ভব নয়। গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি, ২০১৫ সালে তৈরি হয়েছিল দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে। যা আজও আইন হয় নাই। ফলে গৃহশ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিতের কোন উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে আজও গৃহীত হয় নাই।
নেতৃবৃন্দ আরোও বলেন, এর আগেও অসংখ্যবার শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন এবং হত্যার ঘটনা ঘটলেও কোনটার সুষ্ঠু বিচার ও দৃটাম্তমূলক শাস্তি দৃশ্যমান হয় নাই। বরং ক্ষমতার ছত্রছায়ায় প্রতিটি ঘটনার বিচার চাপা পড়ে গিয়েছে। এবারও নির্যাতনকারীরা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জনগণ সন্দেহ করছে। যা আবারও আরেকটি শিশু নির্যাতনের ঘটনার পথ তৈরি করবে।
নেতৃবৃন্দ মোহনার নির্যাতনের সুষ্ঠ বিচার ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
অপর এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ জামায়াত আমিরের নারী বিদ্বেষী বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, কিছুদিন ধরেই জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকে নারীদের প্রতি অবমাননাকর, অশ্লীল নারীবিদ্বেষী নানারকম বক্তব্য শোনা যাচ্ছিল। যা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে সাংঘর্ষিক। সম্প্রতি আল জাজিরায় দেয়া জামায়াতে আমীর এর সাক্ষাৎকারে নারী দলের প্রধান হতে পারবেন না এবং তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্ট যেখানে কর্মজীবি নারীদের পতিতাবৃত্তির আরেক রূপ বলে অভিহিত করার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে গেছে তাদের আসল দৃষ্টিভঙ্গি। নির্বাচনী ইশতেহার যে ভোটের মাঠে জনগণকে ধোকা দেওয়ার জন্য শুধু তাদের ফাঁকা বুলি তা প্রমাণ করে দিয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তারা দেশের এবং দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য রাজাকার, আলবদর,আল সামস্ বাহিনী গড়ে তুলেছিল। নারীদের গণিমতের মাল বলে পাকিস্তানি সৈন্যদের ক্যাম্পে পাঠাতেন আর মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীদের হত্যায় সহযোগিতা করেছেন। নারী সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গী তাদের এখনও সেরকমই। নারী শুধু ঘরের ভেতরে থাকা পুরুষের ভোগ্যবস্তু! সেকারণে তারা নারী ঘরে সময় দিলে সম্মানিত করার কথা বলেন, কর্মঘন্টা কমানোর আশ্বাস দেন, ডাকসু আগে বেশ্যাখানা ছিল বলার দুঃসাহস দেখান, নারী তাদের দলের প্রধান হওয়ার যোগ্য না বলেন। সর্বোপরি জানিয়ে দিলেন কর্মের জন্য বাইরে বের হওয়া নারীর জীবন পতিতাবৃত্তির আরেক রূপ! তাদের দলের নারীরা আবার বলে দিলেন তারা এগুলো মেনেই দল করছেন! এরপরও তারা দেশের ৫১ শতাংশ নারীর সমর্থন প্রত্যাশা করেন কীভাবে? নির্বাচনে তাদের কাছে ভোট চাইবেন কোন মুখে?
নেতৃবৃন্দ আরোও বলেন, কর্মজীবি নারীরা মানসিকভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হন। তারা নিজের, সন্তান ও পরিবারের দায়িত্ব নেন। এর ফলে পুরুষের একক আধিপত্য কমে আসে বলেই কি জামায়াতের এত বিরোধিতা? নারীর মতামত এবং শক্তিকে এত ভয় কেন? নারীর কর্মক্ষেত্র নিরাপদ নয় এই সহজ সত্যি কথার বিপরীতে বক্তব্য হওয়ার কথা ছিল কর্মক্ষেত্র নিরাপদ করার জন্য কি উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। কিন্তু তারা সবসময়ই প্রগতির বিরুদ্ধে হাঁটবেন। তাই তারা ঘরে থাকার আয়োজন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। নারী তাদের কাছে ভোগ্যবস্তু ছাড়া আর কিছুই না। নারীর স্বাধীন সত্ত্বাকে তারা স্বীকার করেন না।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, স্বাধীন দেশে যারা ক্ষমতায় এসেছে তারাই এই স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে বিভিন্নভাবে। এখনও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে গলাবাজি করার সাহস দেখাচ্ছে। দেশের জনগণ ও নারীসমাজের প্রতি আহ্বান এদেরকে আবারও চিনে নিন। এরা আপনার এবং গণতন্ত্রের তথা দেশ ও জাতির শত্রু। এদের মধ্যযুগীয় চিন্তাকে পরাজিত করতে বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক চিন্তাকে শক্তিশালী করুন। নির্বাচনে এদের বয়কট করুন।













