আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে দৈনিক কালবেলার উপজেলা প্রতিনিধি
সাংবাদিক সালাম মুর্শেদীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (০৯ মে) রাতে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আটোয়ারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি আটোয়ারী উপজেলার নিতুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান
শিক্ষকের শেষ কর্মদিবসে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্যালয় ঘেরাও বিষয় নিয়ে সংবাদ
প্রকাশ করা হয়। পরে নিতুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ দবিরুল ইসলাম ওই
সাংবাদিককে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ ও হুমকি দেন। সাংবাদিক তার পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে
নিতুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই প্রধান শিক্ষকের
অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রচার করে।
অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, মোঃ দবিরুল ইসলাম নিতুপড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক
হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২৮ এপ্রিল, তার চাকরি জীবনের শেষ কর্ম দিবস ছিল। তিনি বিদ্যালয়ে
থাকা অবস্থায় তার নিজ প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে
টাকা আত্মসাৎ এর বিষয়ে ওই সহকারী শিক্ষকগণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা
অফিসারের বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর ওই প্রধান শিক্ষকের শেষ কর্ম দিবসে
অভিযোগকারী সহকারী শিক্ষকগণ ও স্থানীয়রা আন্দোলন করতে থাকে। আন্দোলনের বিষয়ে আগে
থেকে আচ করতে পেরে ৩৫ বছরের চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসেও ওই প্রধান শিক্ষক বিদায়
নিতেও উপস্থিত হননি। সহকারী শিক্ষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাংবাদিক সালাম মুর্শেদী দৈনিক
কালবেলার মাল্টিমিডিয়ায় একটি সংবাদ প্রচার করে। সেই সংবাদ প্রচারের সূত্র ধরে প্রধান শিক্ষক
দবিরুল ইসলাম সালাম মুর্শেদীকে বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৮ই মে রাতে দবিরুল ইসলামের ব্যবহৃত মুঠোফোন দিয়ে সালাম মুর্শেদীকে কল
দিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি দেখায়। যার একটি অডিও কল রেকর্ড রয়েছে। এসময়
ওই প্রধান শিক্ষক দবিরুল ইসলাম বলেন, সালাম মুর্শেদী কেন তার বিরুদ্ধে নিউজ করেছে? তিনি বলেন
সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে নাকি কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মাকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তার
বিরুদ্ধে নাকি দশ লক্ষ টাকার মানহানি মামলা করবেন। পত্রিকার সম্পাদককে দিয়ে তার চাকরি শেষ
করে ফেলবেন। তিনি আরো বলেন, সালাম মুর্শেদী নাকি বেশি বেড়ে গিয়েছে, তাকে শায়েস্তা করতে হবে,
তাকে থামাতে হবে এবং শেষ করে ফেলতে হবে বলে হুমকি প্রদর্শন করেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, তিনি পেশাদারিত্বের সাথে ওই প্রধান শিক্ষকের অন্যায়, অনিয়ম ও
দুর্নীতির বস্তুনিষ্ঠ এবং সঠিক তথ্য নির্ভর সংবাদ প্রচার করেছেন। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের পর
তাকে ফোন কলে হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা সহ আইনি সুরক্ষা
চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক দবিরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে
যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা
নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মতিয়ার রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি
গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায়
রয়েছেন স্থানীয়রা।













