সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে ১৩ই মে’২৬ সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ছাত্র সমাবেশ ও ১৩ তম কাউন্সিলে নির্বাচিত কমিটি পরিচিতি অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগর সভাপতি অনিক কুমার দাসের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইনজামামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল -বাসদ ঢাকা মহানগরের ইনচার্জ কমরেড নিখিল দাস, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রিনা মূর্মু। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট তিতুমীর কলেজ শাখার আহ্বায়ক ছাত্রনেতা ইয়াসির আরাফাত, মিরপুর থানার সংগঠক দিপ হালদার,ইডেন কলেজের সংগঠক রুবাইয়া ইসলাম এবং বনানী থানার আহ্বায়ক তাসনুভা ইয়াসমিন। সমাবেশ শেষে শিক্ষার বিভিন্ন দাবিসংবলিত ব্যানার- ফ্যাস্টুন- লাল পতাকা নিয়ে একটি সুসজ্জিত মিছিল প্রেস ক্লাবের থেকে শুরু করে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জন্মলগ্ন থেকেই সর্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, সেক্যুলার, বৈষম্যহীন ও একই ধারার শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে আসছে। সংগঠনটি শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সংগ্রাম করছে। কিন্তু বারবার শাসকের পরিবর্তন ঘটলেও শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য কমছে না; বরং শিক্ষার সংকট জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরদিকে ঢাকা শহরে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ নেই, এলাকায় এলাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠাগারও গড়ে ওঠেনি। ফলে পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাং তৈরি হচ্ছে। স্কুলগুলোতে মিড-ডে মিল চালুর দাবি থাকা সত্ত্বেও শাসকশ্রেণি তা বাস্তবায়ন না করে বরং শিক্ষার্থীদের গাইড ও কোচিংনির্ভর করে তুলছে। এতে শিক্ষার মৌলিক আকাঙ্ক্ষা ব্যাহত হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, বিগত সরকারগুলো শিক্ষাখাতে বরাদ্দ না বাড়িয়ে বরং বেসরকারি শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। উচ্চশিক্ষা সংকোচনের অংশ হিসেবে ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আসন কমানো হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের পরিবারগুলোকে শিক্ষাব্যয়ের ৭১ শতাংশ বহন করতে হয়। ফলে প্রতিবছর শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ছে, তাদের নিয়ে রাষ্ট্রের কোনো কার্যকর ভাবনা নেই। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, আর সেই মেরুদণ্ডকে টিকিয়ে রাখেন শিক্ষকরা। অথচ তাদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে মনোযোগী হতে পারেন না এবং সংসারের ব্যয় নির্বাহের জন্য ভিন্ন পেশার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন।
বক্তারা আরও বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমল হোক কিংবা ইউনূস সরকারের পরবর্তী বিএনপি সরকার—কেউই শিক্ষার সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে ভিটামিন-এ ও হামের টিকা প্রদানে অবহেলার কারণে চার শতাধিক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে, কিন্তু সরকার এ বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে আন্দোলন করছে। কিন্তু একটি চিহ্নিত মৌলবাদী ছাত্র সংগঠন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানার ব্যবহার করে তাদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে ক্যাম্পাসে বিরাজনীতির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের হল দখল, চাঁদাবাজি ও তোলাবাজিকে ছাত্ররাজনীতি হিসেবে উপস্থাপন করে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বিরাজনীতির বিরুদ্ধে আদর্শবাদী ছাত্ররাজনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ জাতীয় নির্বাচনের ৩ দিন পূর্বে আমেরিকার সাথে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অসম, বৈষম্যমূলক, দাসত্বের চুক্তি বাতিলের জোর দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা রায়হান উদ্দিন ১৩ তম কাউন্সিলে নির্বাচিত সভাপতি অনিক কুমার দাস, সহসভাপতি ইয়াসির আরাফাত, সাধারণ সম্পাদক ইনজাজামুল হক,সাংগঠনিক সম্পাদক দিপ হালদারসহ ১৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন।
নিম্নে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা দেওয়া হলোঃ
সভাপতি – অনিক কুমার দাস
সহ-সভাপতি – ইয়াসির আরাফাত (আহবায়ক তিতুমীর কলেজ, ইংরেজি বিভাগ)
সাধারণ সম্পাদক – ইনজামামুল হক (সরাকারি বাংলা কলেজ- গনিত বিভাগ)
সাংগঠনিক সম্পাদক – দীপ হালদার (সংগীত কলেজ ও মিরপুরের সংগঠক)
দপ্তর সম্পাদক – সোহেল রানা ( সদস্য সচীব- ভুগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান,তিতুমীর কলেজ)
অর্থ সম্পাদক – রুবাইয়া ইসলাম (ইডেন মহিলা কলেজ -ইসলামিক স্টাডিজ)
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক – তাসনোভা ইয়াসমিন (টি এন্ড টি মহিলা কলেজ)
পাঠাগার সম্পাদক – প্রজ্ঞা দীপান্বিতা পিউ (সেন্ট্রাল ওমেন্স বিশ্ববিদ্যালয়)
স্কুল সম্পাদক – নুসরাত আফরিন (মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ)
সদস্য-
মালিহা নাবিলা নাওয়াল (পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ)
ইমরান হোসেন (যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, গ্রীন বিশ্ববিদ্যালয়)
মাঈশা জাহান লিমা (বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল এন্ড কলেজ)
ফয়সাল আহমেদ (পদার্থ বিজ্ঞান, ঢাকা কলেজ)
শিমলা সরকার (ঢাকা আর্ট কলেজ)













