শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আয়োজনে গত ১৪ই ডিসেম্বর ২০২৫ বিকাল ৩:৩০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বরে চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ-এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন-এর সঞ্চলনায় আলোচনা করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ফেলো শিপ্রা মন্ডল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক সুহাইল আহমেদ শুভ।
আলোচনায় বক্তাগণ বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ঠিক দুইদিন আগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস এর পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞে শহিদ হন বাংলাদেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিশ্চিত পরাজয় জেনে পুরো জাতিকে মেধাশূণ্য করতে স্বাধীনতার ঊষালগ্নে পরিকল্পিতভাবে এদেশের শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সাহিত্যিক ও শিল্পী, প্রকৌশলী, আইনজীবীসহ সকল স্তরের চিন্তকদের তালিকা করে হত্যা করেছিল। কি অপরাধে এই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল? কারণ তারা একটি শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক স্বাধীন রাষ্ট্র ও সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং পুরো জাতিকে সেই স্বপ্নে দীক্ষিত করতে পেরেছিল। স্বাধীনতার ৫৪ বছেরেও মুক্তিযুদ্ধের কেন্দ্রীভূত চেতনা সাম্য, মানবিক মর্যদা, সামাজিক ন্যায়বিচার অধরাই থেকে গেছে। সাম্যের বিপরীতে গড়ে উঠেছে পাহাড়সম বৈষম্য। আজও আমরা দেখছি সর্বত্রই ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধী ও তাদের অনুসারীদের উল্লাস! কিন্তু মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহিদ, আড়াই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি, বারো শতাধিক বুদ্ধিজীবীর প্রাণদান কখনই বৃথা যেতে পারে না।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট এর গণ অভ্যুত্থান এর চেতনা বৈষম্যহীন- শোষণ মুক্ত সমাজ বিনির্মাণের চেতনা। কিন্তু সেই ১৯৭২ সাল থেকে এদেশীয় বু্র্জোয়াশ্রেণি শাসিত সরকারগুলো এবং এই অন্তর্বর্তীকালীন ইউনূস সরকার মুক্তিযুদ্ধ এবং গণ অভ্যুত্থানের বিপরীতে দেশ পরিচালনা করছেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বক্তরা হুঁশিয়ার করে বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ইতিহাস নিয়ে যড়যন্ত্র করার চেষ্টা এবং মুছে দেয়ার চেষ্টা করবে এই বাংলার ইতিহাস থেকে তারাই মুছে যাবে।
এছাড়াও দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থা, নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শংকা এবং চলমান সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, মব জাস্টিস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেতৃবৃন্দ। আলোচনাসভা শেষে বুদ্ধিজীবী এবং শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।













