মাহতাব ইসলামঃ
বিশ্ব গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন (উফডি)-এর বাংলাদেশস্থ সংগঠনসমূহের (বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট) উদ্যোগে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বন্ধ ও রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তির দাবিতে এবং আন্দোলনরত ভেনেজুয়েলার জনগণের সাথে সংহতি জানিয়ে শাহবাগ চত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুমের সভাপতিত্বে ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিনের সঞ্চালনায় সংহতি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, কৃষক ক্ষেতমজুর সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন শুভ এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি গৌতম শীল।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, আমরা আজ এখানে জড়ো হয়েছি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় অবস্থান জানান দেওয়া জন্য। আমরা মিলিত হয়েছি ভেনেজুয়েলার বীর জনতার সাথে একাত্ম হওয়ার জন্য। যে দেশটি কয়েক দশক ধরে লাগাতারভাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রবল অর্থনৈতিক অবরোধ ও সামরিক হুমকি মোকাবিলা করে টিকে আছে। আমরা অবিলম্বে কমরেড নিকোলাস মাদুরো ও কমরেড সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তির দাবি করছি; যাদেরকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে রাতের আধারে নিজ মাতৃভূমি থেকে অপহরণ করা হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা এই দেশটির তেলসমৃদ্ধ খনিজ সম্পদ লুণ্ঠনের অভিপ্রায়ে নতুন করে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সম্পূর্ণ বেআইনি ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘণ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলা গণপ্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট কমরেড নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী কমরেড সিলিয়া ফ্লোরেসকে তাদের নিজ মাতৃভূমি থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অজুহাত হিসেবে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আবারও তার পুরনো সেই মিথ্যা অস্ত্রটি ব্যবহার করছে। ’৯০-এর দশকে পানামার প্রেসিডেন্ট জেনারেল মানুয়েল নরিয়েগাকে উৎখাত ও বন্দী করতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ঠিক একই প্রোপাগান্ডার আশ্রয় নিয়েছিল।

বক্তারা বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি সুপরিকল্পিত সামরিক আগ্রাসনের অংশ। এই অপহরণ অভিযান চালানোর জন্য পশ্চিম গোলার্ধে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি ভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে ১৫০টিরও বেশি সামরিক বিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছিল। এই বিশাল সামরিক শক্তি প্রদর্শনই প্রমাণ করে এটি একটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদী অভিযান। এছাড়া, ভেনেজুয়েলার সমুদ্র সীমাকে এখন ঘিরে রেখেছে মার্কিন নৌবাহিনীর রণতরীসমূহ, যারা শুধু ভেনেজুয়েলাকেই নয়, প্রতিবেশী কিউবা ও কলম্বিয়ার সরকারকেও প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে।
বক্তারা আরো বলেন,আমরা জানি সাম্রাজ্যবাদ কেন তার নিজের দেশের সীমানা ছাড়িয়ে সারা দুনিয়ার উপর অবাধ পুঁজির কর্তৃত্ব স্থাপন করতে চায়। কেবল বাজার দখলই নয়, বরং সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠনে সাম্রাজ্যবাদ তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করে থাকে। বাজার দখলের জন্য সে আন্তর্জাতিক আইন ও বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থাকে ব্যবহার করে। সম্পদ লুণ্ঠনের জন্য সামরিক হস্তক্ষেপ, রেজিম চেঞ্জ, এমনকি দীর্ঘ যুদ্ধের পথও বেছে নেয়। আমরা ভুলে যাইনি চিলির সালভাদর আয়েন্দের কথা; যাকে সামরিক ক্যু এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়। ইরাকের ক্ষত আজও আমাদের বুকে দগদগে ঘা হয়ে আছে। লিবিয়াকে কিভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয় সেটিও আমরা ভুলিনি। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জোরদার লড়াই আমাদের রাজনৈতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পুঁজির আগ্রাসনই মানবতাকে ভূলুণ্ঠিত করছে। আমরা আছি কিউবার পাশে, আমরা ছিলাম ভিয়েতনামের জনগণের প্রতিরোধের পাশে। আমরা লাতিন আমেরিকার প্রতিটি সংগ্রামের সাথে একাত্ম পোষণ করি। আমরা সবসময় ফিলিস্তিনের জনগণের মুক্তির জন্য সোচ্চার আছি। আজ এই সমবেত অবস্থান থেকে আমরা বলিষ্ঠ কণ্ঠে দাবি তুলতে চাই, অবিলম্বে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও কমরেড সিলিয়া ফ্লোরেসকে সসম্মানে ভেনেজুয়েলার জনগণের মাঝে ফিরেয়ে দিতে হবে এবং লাতিন আমেরিকার আর কোনো দেশে হস্তক্ষেপ করা থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিরত থাকতে হবে। বাংলাদেশদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই দাবিতে জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করতে হবে এবং অপহরণে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিতে হবে। এই দাবি ও আহ্বানের পাশে বাংলাদেশ ও সারা পৃথিবীর মুক্তিকামী জনগণের সোচ্চার ভূমিকা থাকবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। আমরা আহ্বান জানাই সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা রাখা রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়ার মত দেশগুলোর সরকারের প্রতি-তারা যেনে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সাম্রাজ্যবাদকে মোকাবিলায় আরো জোরদার ও কার্যকর ভূমিকা পালনের মাধ্যমে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তোলায় নেতৃত্ব দেয়। ইতোমধ্যে তারা ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের পক্ষে যে ভূমিকা নিয়েছে সেজন্য তাদের জনগণের সাথে সংহতি জানাই।













