আব্দুল হালম, ব্যুরো অফিস, রংপুরঃ
তারাগঞ্জ উপজেলার ওয়াকফ এস্টেট কামিল মাদ্রাসায় চলমান গোপনে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল এবং অধ্যক্ষ আব্দুস সালামের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় সাধারণ জনগণ। আজ ১১ই ডিসেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী অঙ্গীকারবদ্ধ ফ্যাসিস্টের দোসর এই অধ্যক্ষকের গোপন নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে পুনঃবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম করতে হবে। আন্দোলনকারীরা মানববন্ধন শেষে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক রংপুর বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধনে তারাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্তরের মানুষ—শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ শহস্রাধিক লোক অংশ নেন। প্রতিবাদকারীরা ব্যানার হাতে নিয়ে অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা এবং গোপনীয়তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। তাদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম চলতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গোপনে টাকার বিনিময়ে নিজের পছন্দের লোক নিয়েছেন। যা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
প্রতিবাদকারী স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. রুহুল আমিন সরকার বলেন, “অধ্যক্ষের এই স্বেচ্ছাচারিতা শুধু মাদ্রাসার নয়, গোটা উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলুষিত করছে। আমরা চাই পুর্নবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং তার অপসারণ।”
অভিভাবকগণ জানান, “এই ধরনের অনিয়ম শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতকে ঝুঁকিতে ফেলছে। প্রশাসনকে অবিলম্বে এই গোপন নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানান।” 
স্মারকলিপিতে তারা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রংপুর জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতিবাজ এই অধ্যক্ষ এনটিআরসিএ কর্তৃক নিয়োগের বিধান থাকা সত্বেও ব্যাকডেটে গ্রন্থাগার প্রভাষক হিসেবে মোঃ মোবারক হোসেনকে গোপনে ২৮/০২/২০২১ইং যোগদান দেখিয়ে ১০ মাস পর ০৪/১২/২০২১ইং এমপিওভূক্তি করান। অথচ ওই সময় গ্রন্থাগারিক পদে ছিল না।
অধ্যক্ষের নিকট আত্মীয় সংকারী সহকারী অধ্যাপক মোঃ মাহবুব রশিদ বিগত ১৩/০৩/২৫ জাল সনদে চাকুরী প্রমাণিত হওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বেতন ভাতা প্রদান করে আসছেন। গত ১৮ বছর যাবত জাল সনদে চাকুরীর মাধ্যমে অবৈধভাবে সরকারি অর্থ তসরুপকারী মোঃ মাহবুব রশিদকে সুকৌশলে চাকুরি ইস্তফা প্রদানের মাধ্যমে সরকারকে অর্থ ফেরত না দেয়ার অপকৌশলী সহযোগীতা করে যাচ্ছেন।
স্মরকলিপিতে উল্লেখ্য করেন, আর্থিক দুর্নীতিতে অত্র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুস ছালাম শ্রেষ্ঠ। প্রতিষ্ঠানটির আয় ব্যয়ের নেই কোন হিসাব-নিকাশ। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন খাতের অর্থ যেমন ফরম পুরণ, বিভিন্ন পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রি ফি, ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন প্রতিষ্ঠানের দোকান ভাড়া প্রশংসাপত্র ছাড়পত্র ফি, টিউশন ফি, বিভিন্ন সরকারি অনুদান কোন কিছুই প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক একাউন্টে জমা না করে নিজ খেয়াল খুশি মতো গত ১০ বছর যাবত তছরুপ করে আসিতেছেন। এই অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সহকর্মীদের মধ্যেও তৈরি করেছেন বিভেদ ব্যবধান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোনাব্বর হোসেন জানান, স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।













