যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: মোঃ শরিফুর রহমান
যুক্তরাষ্ট্রের Wilmington শহরের Wilmington Hospital-এ সংঘটিত এক মর্মান্তিক বন্দুক হামলায় পুরো হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১৬ জুন বিকেলে হাসপাতালের অভ্যন্তরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় একজন নিহত এবং একজন আহত হন। ঘটনার পরপরই হাসপাতাল লকডাউন ঘোষণা করা হয় এবং শত শত রোগী, চিকিৎসক ও কর্মচারী নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতালের ভেতরে হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুইজন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয় এবং অপরজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলির শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। অনেক কর্মী নিজেদের কক্ষে ব্যারিকেড তৈরি করে আশ্রয় নেন। রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সাময়িকভাবে অন্যত্র রোগী পাঠাতে বাধ্য হয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনাটি একটি লক্ষ্যভিত্তিক বা “টার্গেটেড” হামলা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার পর সন্দেহভাজন ২৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে প্রতিবেশী অঙ্গরাজ্য পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্র আইনে একাধিক অভিযোগ আনা হচ্ছে।
হাসপাতাল পরিচালনাকারী ChristianaCare এক বিবৃতিতে নিহত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং ঘটনার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত কর্মীদের জন্য বিশেষ কাউন্সেলিং সহায়তা চালু করেছে।
ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও স্থানীয় প্রশাসন এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলেন, হাসপাতাল এমন একটি স্থান যেখানে মানুষ নিরাপত্তা ও চিকিৎসার আশায় আসে। সেখানে এ ধরনের সহিংসতা গোটা সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।













