সুত্র দৈনিক আজকের কন্ঠ,
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের “জুলাই সনদ প্রণয়ন ঐকমত্য কমিশন”-এর বিরুদ্ধে নয় মাসে শুধুমাত্র খাবার বাবদ ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে , যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা এই অভিযোগ সামনে আনেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে সাত সদস্যের একটি কমিশন জনগণের করের ৮৩ কোটি টাকা শুধু খাবারের পেছনে ব্যয় করতে পারে? তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মনে হচ্ছে আমরা রাক্ষস বা ডাইনোসরের যুগে বাস করছি। একজন মানুষ কীভাবে একদিনে সাড়ে চার লাখ টাকার খাবার খেতে পারে?”
এই অভিযোগের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যঙ্গ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে করা একটি সাধারণ হিসাব অনুযায়ী, সাত সদস্যের এই কমিশনের প্রতিটি সদস্যের দৈনিক খাবারের খরচ পড়েছে প্রায় ৪ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। অর্থাৎ, প্রতি সদস্যের প্রতি ঘণ্টার খাবারের খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ হাজার টাকার বেশি।
এই অবিশ্বাস্য খরচের হিসাব সামনে আসার পর নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলছেন, “তাঁরা কি সোনার নুডলস, প্লাটিনামের পোলাও, নাকি ইউনিকর্ন বিরিয়ানি খেয়েছেন?” দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে এমন অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং এটিকে “রাষ্ট্রীয় অর্থের নজিরবিহীন অপচয়” হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অভিযোগের যদি ন্যূনতম সত্যতাও থাকে, তবে এটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় দুর্নীতির নজির হয়ে থাকবে। সাধারণ মানুষ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন এমন অভিযোগ রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
তবে, এই বিস্ফোরক অভিযোগের সত্যতা এখনো কোনো স্বাধীন সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। “জুলাই সনদ প্রণয়ন ঐকমত্য কমিশন” বা সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো মহল থেকে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের একটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উন্মোচনের জন্য অপেক্ষা করছে দেশবাসী।













