ভোজ্য তেলের আমদানীকারক ও বাজারজাতকারী সিন্ডিকেটের কাছে
সরকারের আত্মসমর্পণের প্রতি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ ৮ই ডিসেম্বর ২০২৫ সংবাদপত্রে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণ না করে আমদানীকারক ও বাজারজাতকারী সিন্ডিকেটের কাছে সরকার আত্মসমর্পণ করে ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে কমরেড ফিরোজ বলেন, কয়েকদিন আগেই বাজার সিন্ডিকেটের হোতারা সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে না জানিয়েই সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ৯ টাকা বাড়িয়ে বাজারে বিক্রি শুরু করে। সরকারের বাণিজ্যউপদেষ্টা গণমাধ্যমে বলেছেন এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। তাহলে প্রশ্ন দেশটা চালায় কারা? সরকার নাকি মুনাফাখোর সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা? আবার সরকার ও আমদানীকারক, বাজারজাতকারীদের এসোসিয়েশনের সাথে গতকাল সভা করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ৬ টাকা, খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ৭ টাকা এবং পামঅয়েলের দাম লিটার প্রতি ১৬ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে বাস্তবে মুনাফাখোর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের ওপর সরকারের অনুমোদনের সীলমোহর মারা হলো।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কাছে নতি স্বীকার করে ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির এই সময়ে ভোক্তাদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির বাড়তি চাপ পড়বে। যা সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তুলবে। এমনিতেই চাল, পিয়াজ, সবজিসহ সব নিত্যপণ্যের দামের উর্ধ্বগতির ফলে দরিদ্র, নি¤œ আয়ের ও নিন্মবিত্ত-মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস ওঠেছে। তাছাড়া ইতিপূর্বে চলতি বছরে ২ বার এপ্রিল মাসে বোতলজাত সয়াবিন লিটার প্রতি ১৪ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ও পামঅয়েল ১২টা এবং অক্টোবর মাসে বোতলজাত সয়াবিন তেলে ৬ টাকা, খোলা সয়াবিন তেলে ৮ টাকা লিটার প্রতি মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। এক বছরে ৩ বার ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধি অস্বাভাবিক ও ভোক্তা জনসাধারণের জন্য চরম অসহনীয়।
বিবৃতিতে কমরেড ফিরোজ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম যখন নিন্মমুখী তখন দেশে তেলের মূল্য বৃদ্ধি করে সরকার জনগণের পকেট কেটে মুনাফাখোরদের স্বার্থই রক্ষা করছে।
বিবৃতিতে ভোজ্য তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার ও নিত্য পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্য রাখতে বাজার মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সাথে গ্রাম-শহরের শ্রমজীবী ও নিন্ম আয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে রেশনিং চালু ও টিসিবি’র মাধ্যমে বরাদ্দ ও সরবরাহ বৃদ্ধির দাবি জানান।













