নবীন-প্রবীণ কবি-সাহিত্যিকদের মেলবন্ধন তৈরির প্রত্যয়ে এগিয়ে চলা
অরাজনৈতিক জাতীয় সাহিত্য সংগঠন কাব্যকথা সাহিত্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে
বিশ্ববাংলার অক্ষত স্বপ্নের কবি রেজাউদ্দিন স্টালিনকে আজীবন সম্মাননা ২০২৬ প্রদান করা হয়।
রেজাউদ্দিন স্টালিন প্রধান অতিথি হিসেবে তাহাঁর বক্তব্যের সময় একথা বলেন যে ভাল মানুষ বেশী দিন এক জায়গায় থাকতে পারে না।
অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাকে প্রদান করা হয় একটি ক্রেষ্ট, উত্তরীয়, বেচ, এবং নগদ ১০ হাজার টাকার
চেক। গত ১০ই জানুয়ারী জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা কবি
ও কথাশিল্পী আরিফ মঊনুদ্দীনের সভাপতিত্তে ও প্রতিষ্ঠাতা নির্বহী সভাপতি কবি কথাশিল্পী ও
পুঁথি সম্রাট জালাল খান ইউসুফীর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে
উপস্থিত ছিলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক রাষ্ট্রদূত কবি ও কথাশিল্পী মাজেদা
রফিকুন নেছা, দৈনিক নয়াদিগন্তের সাহিত্য সম্পাদক কবি জাকির আবু জাফর, কবি ও
সাংবাদিক রফিক হাসান, বাংলা একাডেমির উপপরিচালক গবেষক ড. সাহেদ মন্তাজ, কবি ও
অভিনেতা এবিএম সোহেল রশিদ, মাসিক কাব্যকথার সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি কবি সুফিয়া
বেগম, কবি কামরুজ্জামান, কবি ফরিদুজ্জামান, কবি আসাদ কাজল, ইসলামী লেকক ফোরামের
সভাপতি কবি মুনীরুল ইসলাম, ছড়াসাহিত্যিক কবি মালেক মাহমুদ, দৈনিক বিজয় পত্রিকার
সম্পাদক কবি সাব্বির আহমেদ সেন্টূ, সারেং সম্পাদক কবি আবদুর রহমান মল্লিক, মাসিক
মুক্তবুলি সম্পাদক কবি রিপন শান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক
কথাশিল্পী খন্দকার আতিক, শুভেচ্ছা বক্তব্য উপস্থাপন করেন সাংগঠনিক সম্পাদক কবি শিবির
আহমেদ লিটন, আইন বিষয়ক সম্পাদক বিশিষ্ট আইনজীবী কবি শামীমা আক্তার শিউলী, কবি ও
সম্পাদক মোহাম্মদ বাদশা গাজী। আবৃত্তি করেনে কবি ও আবৃত্তিশিল্পী ইরানী সুলতানা,
মুশফিকা আলম। সংগীত পরিবেশন করেন কবি ও কণ্ঠশিল্পী সালমান ফারসী, কবি রহমতউল্লাহ।
সাধারণ সম্পাদক কথাশিল্পী খন্দকার আতিকের পরিচালনায় কথা, নিবেদিত কবিতা ও
স্বরচিতগ্রন্থ উপহার প্রদান করে কবি রেজাউদ্দিন স্টালিনকে শুভেচ্ছা জানান, দৈনিক ইনকিলাবের
মফসসল বিভাগীয় প্রধান সিনিয়র সাংবাদিক কবি আলম সামস, কবি সুমন রায়হান, কবি
রেজাউল রেজওয়ান, কবি সুমাইয়া আক্তার তৃষা, কবি সাগর ইসলাম, কবি কবির ভূইয়া, কবি
আবদুস সালাম চৌধুরী, কবি মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন, কবি নিশাত জেসমিন, আবদুল
আলিম, কবি জয় সুন্দও, কবি পীযুষ চিসিস, কবি সালাউদ্দিন, কবি রাজীব চন্দ্র দেব, লেখক
কালাম ফয়েজী, কবি আতাউর রহমান আতা, কবি খান মাহমুদ, জহিরুল ইসলাম, সাইদুল
ইসলাম, কবি শাকিল ইসলাম, শামীমা সনি প্রমূখ। আরো উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক
খন্দকার মাসুদুজ্জামান, সাংবাদিক সৈয়দ মাইদুল ইসলাম, সাংবাদিক আবদুররাজ্জাক, সাইদ
মামুন। কবিকে নিবেদিত ও স¦রচিত পুঁথি রেজাউদ্দিন স্টালিন কাব্য, ওসমান হাদির পুঁথি
এবং বেগম খালেদা জিয়ার পুঁথি পাঠ করেন জালাল খান ইউসুফী।
বিশ্ববাংলার অক্ষত স্বপ্নের কবি শিরোনামের স্বরচিত মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কবি সুফিয়া
বেগম। প্রবন্ধটি তুলে ধরা হলো।
বিশ্ববাংলার অক্ষত স্বপ্নের কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন শৈশব থেকেই কবিতা লিখেন। ১৯৭০ সালে
আট বছর বয়সে শতদল পত্রিকায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘শপথ’ প্রকাশিত হয়। ১৯৮৬ সালে গ্রন্থালয়
থেকে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ফিরিনি অবাধ্য আমি’ প্রকাশ হলে গ্রন্থটি পাঠকপ্রিয়তা
অর্জনেও সক্ষম হয়। এ পর্যন্ত তাঁর লেখা প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা ১০১টি। স্টালিনের কবিতা
ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, উড়িয়া, রুশ, জার্মান, চীনা, জাপানি ও ফরাসি ভাষায় অনূদিত
হয়েছে। ‘রবীন্দ্রনাথ আরোগ্য’ নামে একটি প্রবন্ধ গ্রন্থও লিখেছেন। তাঁর ছড়াগ্রন্থ
‘হাঁটতে থাকো’। স্টালিন রচিত উপন্যাস ‘সম্পর্কেরা ভাঙ্গে’। কবিতার একটি একক
সিডি ‘আবার একদিন বৃষ্টি হবে’, আবৃত্তি করেন প্রদীপ ঘোষ। অনুবাদক জাকারিয়া
সিরাজী সিলেক্টটেড পয়েমস অব রেজাউদ্দিন স্টালিন নামে একটি গ্রন্থ ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
বাংলা কবিতায় অবদানের জন্য তাকে ২০০৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে
ভূষিত করা হয়। তিনি ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নলডাঙা গ্রামে ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের ২২
নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। বাবা শেখ বোরহান উদ্দিন আহমেদ ছিলেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের
প্রধান শিক্ষক ও মা রেবেকা সুলতানা ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা। দুইবোন সুহিতা সুলতানা ও
সেতারা এলিন। দাম্পত্যসঙ্গী ওয়াহিদা আক্তার , সন্তান তানিজিলা রেজা (কন্যা)।
গ্রামেই শৈশব কেটেছে। পরবর্তীতে স¦পরিবারে কালিগঞ্জ শহরে চলে আসেন। ১৯৬৯ সালে
কালিগঞ্জ থেকে যশোর নতুন উপশহরে স্বপরিবারে এসে ডি ব্লকের ২২৩ নম্বর বাসায় স্থায়ীভাবে
বসবাস করেন।
রেজাউদ্দিন স্টালিন এই সময়ের বিশেষ ব্যতিক্রমী ধারার একজন কবি। তাঁর কবিতার ভাষা ভিন্ন
এবং প্রথাবিরোধী। শক্তিশালী ও সংযমী। কবিতায় আছে পুরাণের প্রাচুর্য, দার্শনিক সত্য,
অসম্ভব বাস্তবতা এবং সম্প্রসারিত বাস্তবতা। জাদুবাদের জগতে তিনি প্রবেশ করেন বাঙালির
ঐতিহ্য ভাবনা নিয়ে। প্রাচ্য ও প্রাতীচ্যের মধ্য বিশ্বস্ত যোগাযোগ, তাঁর কবিতায় আছে
প্রেম, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক বোধ। তাঁর কবিতা দেশে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে
জনপ্রিয়তা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক পাঠকগণ অনুবাদের মাধ্যমে তার কবিতা ও
বাংলা কবিতা চেনার সুযোগ পেয়েছে। আমরা আমাদের ভাষা নিয়ে গর্বিত; কিন্তু আমাদের
কবিতা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক ভাবে পৌছাতে পারিনি। স্টালিনের চেষ্টায় আর্ন্তজাতিক
অঙ্গনে বাংলা কবিতার প্রচার অনেকাংশে সার্থক। তিনি কবিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সৌন্দর্যকে আলোকিত করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতি অঙ্গনে
নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। স্টালিনের কবিতায় প্রেম এবং মানবিকতার চিত্রায়ন অন্যদের থেকে
ভিন্ন। তাঁর কবিতা প্রেমের চিরাচরিত অর্থকে ছাড়িয়ে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সমগ্র
বিশ্বকে আলিঙ্গন, জীবনের গভীরতা খোঁজার অনুরণন তুলে ধরে। কবিতা কেবল প্রেমের বাহ্যিক
রূপ নয় বরং এক গভীর অনুভূতির প্রকাশ, যা মানুষকে একে অপরের প্রতি দায়বদ্ধ করে তোলে। তাঁর
কবিতাগুলি সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থার কথা বলে, বিশেষ করে বাংলাদেশের সামাজিক ও
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে তিনি কবিতায় তুলে ধরেছেন। যুদ্ধ ও শান্তির দ্বন্দ্ব, সামাজিক
পরিবর্তন, শোষণ এবং মানবাধিকার সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেছেন। ‘যুদ্ধ নয় শান্তি’
গ্রন্থে যুদ্ধের বিরোধিতা করে শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর কবিতায় প্রতিবাদের সুর
আছে, তেমনি গভীর দার্শনিক ভাবনা, যা পাঠকদের চিন্তাকে উজ্জীবিত করে। রেজাউদ্দিন
স্টালিনের কবিতার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য- ভাষার বৈচিত্রতা ও অলংকার প্রয়োগে নতুনত্ব। সহজ ও
গভীর ভাষার মিশ্রণে তিনি তাঁর কবিতাকে অসামান্য করে তুলেছেন। সাহিত্য ও সংস্কৃতি
অঙ্গনে রেজাউদ্দিন স্টালিনের অবদান অনস্বীকার্য। পাঠকরা তাঁর কাব্যের দৃষ্টিতে বিশ্বকে একটি
নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে শিখেছে এবং সাহিত্যকে মানবিক সম্পর্ক ও বিশ্ববোধের এক
গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে উপলব্ধি করছে। তাঁর সাহিত্যের মূল সুর মানবিকতা, প্রেম এবং
শান্তির বাণী। সর্বোপরি মানবতাবাদী কবি রেজাউদ্দিন স্টালিনকে বাংলা সাহিত্যের নবীন
প্রবীণ কবিদের মেলবন্ধন তৈরির প্রত্যয়ে এগিয়ে চলা অরাজনৈতিক জাতীয় সাহিত্য সংগঠন
কাব্যকথা সাহিত্য পরিষদ আজীবন সম্মাননা প্রদান করে গর্বিত ও আনন্দিত।


