পুলিশী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত দমন-নির্যাতন করে বামপন্থীদের বন্দর রক্ষার আন্দোলন থেকে সরানো যাবে না। দায়ী পুলিশ সদস্যদের শাস্তির দাবি
নিউমুরিং টার্মিনালসহ লাভজনক বন্দর টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়া চলবে না; গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশি হস্তক্ষেপ বন্ধ কর
রাজেকুজ্জামান রতনঃ
বন্দর রক্ষার দাবিতে ‘যমুনা’ অভিমুখে বামপন্থীদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে গত ৫ই ডিসেম্বর ২০২৫ বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাম গণতান্ত্রিক জোট, ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা, বাংলাদেশ জাসদ ও জাতীয় গণফ্রন্টের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী বাম মোর্চা ও সাম্যবাদী আন্দোলনের সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী. গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পদাক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা সীমা দত্ত, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা শামীম ইমাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, বাসদ (মাহবুব) এর সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ, গণমুক্তি ইউনিয়নের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন নাসু, সোস্যালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাসদ-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য করিম সিকদার, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, গতকাল পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বাম-প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে বন্দর রক্ষার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখী শান্তিপূর্ণ মিছিল করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ বিনা উসকানীতে কাকরাইল মোড়ে পুলিশ মিছিলের উপর হামলা ও লাঠিচার্জ করে। সিপিবির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্কাফী রতনসহ ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়। শ্রমিকনেতা রুহুল আমিনের মাথা ফেটে যায়। দেশের জনগণ গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে হটিয়েছে কিন্তু বর্তমান ইউনূস সরকারও বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের মতোই সংবিধান বর্ণিত সভা-সমাবেশ, মিছিল করার নাগরিক গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করছে, দমন-পীড়ন করে আন্দোলন নস্যাতের পাঁয়তারা করছে। এটি দেশের জনগণ প্রত্যাশা করে না। ’২৪-এর গণ অভ্যুত্থানের শহিদদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছে, যেটি দেশবাসী সহ্য করবে না।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জনমত উপেক্ষা করে পতেঙ্গার লালদিয়া চরের কন্টেইনার টার্মিনাল ও কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির সাথে জাতীয় স্বার্থবিরোধী ইজারা চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। শুধু তাই নয়, দেশ-জাতিকে অন্ধকারে রেখে নিউমুরিং, মংলা, পতেঙ্গা বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। বর্তমান অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের এই ধরনের চুক্তি করার কোন এখতিয়ার নেই। তাদের উচিত গণ অভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট অনুযায়ী দ্রত নির্বাচন দিয়ে সরে যাওয়া।
নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, নেতাকর্মীদের আহত করে বন্দর রক্ষার আন্দোলন থেকে বামপন্থীদের সরানো যাবে না। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশি হস্তক্ষেপ আইন করে নিষিদ্ধ করা এবং হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের শাস্তির দাবি করেন নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ থেকে বন্দর রক্ষার চলমান আন্দোলনে দেশবাসীকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।













