কুরিগ্রামের রৌমারিতে যাত্রাপালা প্রস্তুতিকালে বাঁধা। লোকজ সাংস্কৃতিতে হোঁচট।
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে আয়োজিত দুই দিনের দুইটি যাত্রাপালা মঞ্চায়নের সময় এক লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বাঁধাদেন রৌমারী থানা পুলিশ।এতে যাত্রা পরিচালনা কমিটির প্রায় দুইলাখ টাকার ক্ষতি হয়।
বুধবার রৌমারী উপজেলা শাখা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতাকর্মী থানায় লিখিত দরখাস্ত দিয়ে অনুষ্ঠানটি বন্ধের দাবি জানালে পুলিশ যাত্রাপালা অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়।
এদিকে যাত্রা পরিচালনা কমিটি বলছে,স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোদন সাপেক্ষে যাত্রাপালার মঞ্চ নির্মাণ, শিল্পী নির্বাচন, আলোকসজ্জা, নিরাপত্তা ও প্রচারণায় আয়োজকরা প্রায় ২০০০০০’ পরিমাণ অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেন।যাত্রা মঞ্চায়নের সময় এলাকায় কয়েক হাজার দর্শকের সমাগম ছিল বলে জানান পরিচালনা কমিটি।
এ ঘটনায় যাত্রাশিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা য়ায়। তারা বলছে, প্রশাসনের অনুমোদিত একটি লোকজ সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধের প্রচেষ্টা একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মনে ভীতি, ক্ষোভ ও বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি তৈরি করতে পারে, যা কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদে শুভ লক্ষণ নয়।
যাত্রা পরিচালনা কমিটি বলছে আমরা সুষ্ঠ,সামাজিক যাত্রাপালার আয়োজন করেছি।আমরা মুসলিম ধর্মীয় বিধান আমরা জানি।
ইসলামী গবেষকদের মতে, যাত্রাপালার মতো লোকজ শিল্প যদি অশালীনতা ও অনৈতিকতা মুক্ত থাকে, তবে তা দুনিয়ার ‘অংশ’ হিসেবেই গণ্য হয়—যেখানে শিক্ষা, ইতিহাস ও নৈতিক বার্তা উপস্থাপিত হয়।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্রামীণ বাংলাদেশের যাত্রাশিল্পের সঙ্গে কয়েক লাখ শিল্পী, কলাকুশলী ও তাদের পরিবার সরাসরি যুক্ত। পাশাপাশি, গ্রামীণ জনপদের একটি বড় অংশ এই শিল্পকে বিনোদন ও সামাজিক মিলনের মাধ্যম হিসেবে দেখে। এছাড়া যাত্রাশিল্পীরা একটি বড় ভোট ব্যাংক।সামনে নির্বাচন তাই কারোর প্রতি খারাপ আচরণ না করাই শ্রেয়।
এ ঘটনায় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা বলছেন , যাত্রাশিল্পের সঙ্গে সংঘাত নয়, বরং নৈতিক সংস্কারের হাতিয়ার হিসেবে এটিকে গ্রহণ করলে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ইতিবাচক ফল আসতে পারে। যদি রৌমারীর মতো ঘটনা যদি পুনরাবৃত্তি হয় তাহলে, যাত্রাশিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে স্থায়ী আস্থার সংকট তৈরি হবে।













